পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ৫০ শয্যবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবল সঙ্কট রোগীদের ভোগান্তিতে ফেলেছে। গত চার মাস ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে মাত্র ছয়জন চিকিৎসক দিয়ে দুই লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
হাসপাতালে প্রতিদিনই রোগীর চাপ থাকে অনেক বেশি। শয্যা সঙ্কটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অথচ ১০টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ এ হাসপাতালের চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪৪টি হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ছয়জন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন মাত্র দুই-তিনজন চিকিৎসক রোগী দেখছেন।
হাসপাতালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবা এক্স-রে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সিজার (সিজারিয়ান অপারেশন) সেবাও চালু নেই। সিজার কক্ষের লাখ লাখ টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
এদিকে হাসপাতালের দু’টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে জরুরি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর বা অন্যত্র পাঠাতে রোগীর স্বজনদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও আর্থিক চাপ দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্ত্বেও শুধু চালকের অভাবে মানুষ স্বল্পমূল্যের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে রোববার (২৬ জুলাই) পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা: মিজানুর রহমান জানান, পুরো জেলাতেই চিকিৎসক সঙ্কট রয়েছে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদেও নিয়োগ না হওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আফরোজা। তার অনুপস্থিতিতে দেবীগঞ্জ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: আবু নোমান দাফতরিক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় আর্থিক ও প্রশাসনিক অনেক কার্যক্রম পরিচালনার আইনগত সুযোগ সীমিত রয়েছে।



