বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা, যাতে এ অঞ্চল আবার শস্য-শ্যামল হয়ে উঠতে পারে এবং খাল-বিলগুলোতে পানি ফিরিয়ে এনে কৃষিসহ সব ক্ষেত্রে মানুষের পানির সঙ্কট দূর করা যায়।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজনে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, অনেক মানুষ তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। নীলফামারীর মানুষও এই নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। রাতের আঁধারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, যার অপরাধ ছিল জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার কথা বলা।
তিনি বলেন, “১২ তারিখের নির্বাচনে দেশের মানুষ আবার ভোট দেবে এবং তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তবে শুধু ভোট দিলেই চলবে না, এই নির্বাচনকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে দেখতে হবে। আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।”
নারী ও কৃষকদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি পরিবারের নারীদের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে খেটে খাওয়া পরিবারগুলো মাসিক সরকারি সহায়তা পাবে।
কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজে কৃষিঋণ, বীজ, সার ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ পাবে। পাশাপাশি বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা দেশে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, সমাজে এমন একটি শ্রেণি আছে যাদের অবদান জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত—মসজিদ-মাদরাসার ইমাম, খতিব, মোয়াজ্জেমসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুরা। তাদের অনেকেই কষ্টকর জীবন যাপন করেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জন্য সম্মানজনক জীবনযাপনের ব্যবস্থা করা হবে।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি মহল সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে বাধা দিতে ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যারা ভোটারদের ভয় দেখাবে বা বিভ্রান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা ধর্ম-বর্ণ না দেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সবাই রাজপথে নেমেছিল। আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি, রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি।”
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড আরো সম্প্রসারণ করা হবে এবং নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে। তরুণদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
এ ছাড়া নীলফামারীতে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর এবং পুরো অঞ্চলকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি। নীলফামারী-দিনাজপুর অঞ্চলকে আর অবহেলিত রাখতে চান না বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
সমাবেশ শেষে নীলফামারী-১ আসনে জোট প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা মঞ্জুরুল আলম আফেন্দী, নীলফামারী-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, নীলফামারী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী এবং নীলফামারী-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকারকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেলের সঞ্চালনায় জনসভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সোয়েম প্রমুখ।



