হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনী তহবিলে ১৪ লাখ টাকা উপহার সহপাঠীদের

দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসএসসি ’১৪ ব্যাচ আয়োজিত এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বন্ধুদের পক্ষ থেকে তার নির্বাচনী তহবিলে ১৪ লাখ টাকা উপহার দেয়া হয়।

মো: ফখরুল ইসলাম সাগর, দেবিদ্বার (কুমিল্লা)

Location :

Cumilla
উপহার গ্রহণ করছেন হাসনাত আবদুল্লাহ
উপহার গ্রহণ করছেন হাসনাত আবদুল্লাহ |নয়া দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনী লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন তার সহপাঠীরা।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসএসসি ’১৪ ব্যাচ আয়োজিত এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বন্ধুদের পক্ষ থেকে তার নির্বাচনী তহবিলে ১৪ লাখ টাকা উপহার দেয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সাবেক শিক্ষক মো: আব্দুস সবুর, জামাল মোহাম্মদ কবির, জসিম উদ্দিন, সাবেক শিক্ষার্থী সরকার সাকিব, আহম্মেদ শুভ, মুহতাদির যারিফ সিক্তসহ বিভিন্ন স্কুলের ২০১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

সহপাঠীদের এই অনন্য উপহার হাতে পেয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘রাজনীতিতে মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে তিনি কোনো আপস করবেন না।’

তিনি বলেন, ‘দিনশেষে আমি যে রাজনীতিই করি না কেন, সবাই হয়তো একমত হবেন না। তবে স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতার প্রশ্নে আপনারা আমাকে সবসময় পরিষ্কার অবস্থানে পাবেন।’

দেবিদ্বারের মাটিতে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ভাগ করে তিনি জানান, ‘এলাকার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে মানুষের প্রতিটি সমস্যা সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত।’

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে আমূল পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, ‘দেবিদ্বারকে দেয়ার মতো তার অনেক কিছু আছে, তবে সে জন্য দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক ঐক্য প্রয়োজন।’

বক্তব্য চলাকালে তিনি অতীতে তার বিরুদ্ধে হওয়া নানা ষড়যন্ত্র ও সমালোচনার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলা হয়েছিল যে তিনি সম্মানজনক ভোটও পাবেন না। এমনকি তার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলাসহ তার বিরুদ্ধে জুতা মিছিল পর্যন্ত করা হয়েছিল। তবে সকল প্রতিকূলতায় বন্ধুদের এই সমর্থনই তার মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

হাসনাত বলেন, ‘বন্ধুরা পাশে থাকলে আমার আর কাউকে খুঁজতে হবে না।’

পরিশেষে দেবিদ্বারকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ‘নেতৃত্বের ভিত্তি হতে হবে যোগ্যতা ও মেধা, কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের উত্তরাধিকার নয়।’

১৯৬৪ সাল থেকে শুরু করে সব ব্যাচের প্রবীণ ও নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমেই তিনি এই ভালোবাসার প্রতিদান দেবেন।