বানারীপাড়ায় শ্রমিকদল সভাপতির বাড়ি থেকে বিদেশী পিস্তলসহ অস্ত্র উদ্ধার

বানারীপাড়ার বাইশারী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠী থেকে ইউনিয়ন শ্রমিক দল সভাপতি ফিরোজ সরদারের নিজ ঘরের ভেতর থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল সহ দু'টি দেশী রামদা, একটি চাকু উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর একটি টিম।

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
বানারীপাড়ায় শ্রমিকদল সভাপতির বাড়ি থেকে বিদেশী পিস্তলসহ অস্ত্র উদ্ধার
বানারীপাড়ায় শ্রমিকদল সভাপতির বাড়ি থেকে বিদেশী পিস্তলসহ অস্ত্র উদ্ধার |নয়া দিগন্ত

বানারীপাড়ার বাইশারী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠী থেকে ইউনিয়ন শ্রমিক দল সভাপতি ফিরোজ সরদারের নিজ ঘরের ভেতর থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল সহ দু'টি দেশী রামদা, একটি চাকু উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর একটি টিম।

সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই ও এনএসআই’র তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের ৬ পদাতিক ব্রিগেডের অধীন ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট মো: মাহফুজুর রহমান ও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো: করিমুলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শিয়ালকাঠী খেয়াঘাট সংলগ্ন ফিরোজ সরদারের নিজ ঘর থেকে অভিযান চালিয়ে এ অস্ত্রগুলো আটক করা হয়।

এ সময় বরিশাল মেট্রো ল-১৩-২৩২৮ নম্বরের একটি ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। ফিরোজ সরদার উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির ১নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান ওরফে সবুর মেম্বরের পালিত ক্যাডার বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

একই সময় বাইশারী ইউনিয়নের দত্তপাড়ার আদর্শ গ্রামের ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েলের বাড়ি, বসুর হাটের কৃষক দল নেতা সাইদুল কাজীর বাড়ি ও বাইশারীর বিএনপি কর্মী রানার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহীনির ওই টিম। এ সময় শিয়াল কাঠীর ফেরিঘাট টার্মিনালের খোন্দল থেকে অভিযান চালিয়ে ১টি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় সেখান থেকে কাউকে আটক করতে পারেনি সেনাবাহিনীর ওই টিম।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজ ইতিপূর্বে ঢাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো। ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের পর সবুর মেম্বর রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষে ফিরোজকে ঢাকা থেকে এলাকায় নিয়ে আসেন। ৫ আগস্টের পরে এলাকায় এসে ফিরোজ সবুরের দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং সেই সুবাধে সবুর মেম্বরের ছত্রছায়ায় ফিরোজ একটি ত্রাস বাহিনী তৈরি করে শিয়ালকাঠীর ফেরিঘাট, দত্তপাড়া, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা সাতআনি, বসুরহাট, গরদ্দারসহ বাইশারীর বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহতভাবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ৫ আগস্টের পরে তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষসহ হিন্দুদের জমি দখল ও জোরপূর্বক তাদের গাছ কেটে বিক্রি করে দেয়া, সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার, ট্রলারসহ খেয়াঘাট দখলসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।

সেনা সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।