মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে হামিদা আক্তার কুলসুম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো: সাইমনের (২৫) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হামিদা উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের আনসার আলী গাজীর মেয়ে। অভিযুক্ত সাইমন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার চাষাপাড়া এলাকার মো: কামাল উদ্দিনের ছেলে।
এ ঘটনায় হামিদার বাবা মো: আনসার আলী গাজী সাইমনকে প্রধান আসামি করে মির্জাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে গৃহবধূ কুলসুম তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শনিবার বিকেলে স্বামী সাইমন শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রোববার রাতে কুলসুম সাইমন দম্পতি ঘরের দোতলায় অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন দোতলায় গিয়ে রুমের বিছানার উপর কুলসুমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের স্বজনরা জানায়, সাইমনের সাথে হামিদার এক বছর পূর্বে বিবাহ হয়, এটি কুলসুমের দ্বিতীয় বিয়ে। কুলসুমের প্রথম সংসারের চার বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো: ওয়ারেচ খান গৃহবধূ কুলসুমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুস সালাম বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি । লাশের পাশে পড়ে থাকা একটি ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে কুলসুমকে হত্যা করা হয়েছে। কুলসুমের ঘাড়ে দাগ ও রক্তের আলামত রয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত করেই হত্যাকারী পালিয়ে গেছেন। ঘাতক সাইমনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।’



