রাবিপ্রবিতে প্রথম জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স শুরু

রাঙ্গামাটিকে পর্যটনের কেন্দ্র বানানোর প্রত্যয়

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করেছে রাবিপ্রবি ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

পুলক চক্রবর্তী, রাঙ্গামাটি

Location :

Rangamati
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাবি ভিসিসহ অন্যরা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাবি ভিসিসহ অন্যরা |নয়া দিগন্ত

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স ২০২৬।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর সম্মেলন কক্ষে এর উদ্বোধন হয়।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করেছে রাবিপ্রবি ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা, গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সংযোগ তৈরি এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নই এই কনফারেন্সের মূল লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন রাবিপ্রবির ভিসি প্রফেসর ড. মো: আতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হোসেন উদ্দিন শেখর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও কনফারেন্স সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন।

রাবিপ্রবির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও কনফারেন্স কো-চেয়ার মোসা: হাবিবার সভাপতিত্বে সমাপনী বক্তব্য দেন কনফারেন্স সদস্য-সচিব ও সহকারী অধ্যাপক জি এম সেলিম আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘এই কনফারেন্স পর্যটন শিল্পের পেশাজীবী ও একাডেমিকদের এক ছাদের নিচে এনেছে। এটি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন পথ খুলবে।’

তিনি রাঙ্গামাটির পর্যটন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং এই অঞ্চলের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি রাঙ্গামাটিতে তার শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণাও করেন।

ভিসি প্রফেসর ড. আতিয়ার রহমান বলেন, ‘এই কনফারেন্স গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের মিলনস্থল হয়ে উঠেছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাহাড় ও লেকসমৃদ্ধ রাঙ্গামাটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হবে। তিনি কনফারেন্স সফল করতে সব মিডিয়া পার্টনার, সাংবাদিক, পৃষ্ঠপোষক ও অংশীজনদের ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘রাঙ্গামাটি ইকো ট্যুরিজম, কালচারাল ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।’ তিনি সম্ভাবনার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও উল্লেখ করেন।

কনফারেন্সে প্লেনারি সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: কামরুল হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম।

কনফারেন্সে দেশের ৭০টিরও বেশি পর্যটন গবেষক তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করছেন।

এতে টেকসই পর্যটন, ইকো ট্যুরিজম, নীতি নির্ধারণ, এআই ও বিগ ডেটার ব্যবহার, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নদী ও হাওর অঞ্চল, কমিউনিটি ও নারীর সম্পৃক্ততা, স্মার্ট ট্যুরিজম এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণের বিষয়গুলো উঠে আসছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রভাষক মো: নাফিজ মন্ডল ও ফাহিম হোসেন।

কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিন শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে কী-নোট স্পিচ, ওরাল ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কনফারেন্স শেষ হবে।

আয়োজকদের আশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে রাঙ্গামাটির পর্যটন সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে আরো দৃশ্যমান হবে। একইসাথে পর্যটন খাতে শিক্ষা, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে।