গ্যাস সঙ্কটের কারণে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকে এক মাসের জন্য কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত ২৮ মার্চ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জরুরি সভায় এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাস গ্যাস রেশনিংয়ের মাধ্যমে সার কারখানাগুলোর উৎপাদন অব্যাহত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ ও অনিশ্চয়তা বিবেচনায় দেশের সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে আগামী মে ও জুন মাসে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হতে পারে বলে জানানো হয়।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শাহজালাল ইউরিয়া সার কারখানাটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১০ সালের দিকে নির্মিত এ কারখানাটি নানা সঙ্কটে প্রায় প্রতি বছরই একাধিকবার উৎপাদন বন্ধ থাকে।
শুধু ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তিন দফায় প্রায় সাড়ে ১৩ মাস উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ ওভারহোলিংয়ের কাজ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওভারহোলিংয়ের কাজ শেষ হলেও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় কারখানা চালু করা সম্ভব হয়নি। পরে ১ অক্টোবর জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড গ্যাস সংযোগ দিলে দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ থাকার পর ৯ অক্টোবর পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়। এর আগে ২০২৪ সালেও কারখানাটি দুই দফায় ১২৫ দিন বন্ধ ছিল।
কারখানা সূত্রে আরো জানা গেছে, উৎপাদন বন্ধ থাকলে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ হিসাবে তিন দফায় সাড়ে ১৩ মাস উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কারখানার হিসাব বিভাগ জানায়, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেকে নেমে আসে। গত অর্থবছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন লাখ ৮০ হাজার টন, কিন্তু উৎপাদন হয়েছে মাত্র এক লাখ ৯০ হাজার টন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ টন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে দেশের বৃহৎ এ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় আগামী আমন মৌসুমে সার সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
শাহজালাল সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আশরাফুল ইসলাম জানান, সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা হবে।



