কুলাউড়া থানা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতদলের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়। কুলাউড়া থানা পুলিশের একটি দল কুলাউড়ার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নের অর্ন্তগত মানগাঁও ত্রিমোহনী রাস্তার পয়েন্ট থেকে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতার ডাকাতদের শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার ডাকাতরা হলেন— মৌলভীবাজার সদর থানার পূর্ব সৈয়ারপুর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মো: কাউছার মিয়া (৩২), বেরিরচক এলাকার মরহুম নুর মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (৩২), কুলাউড়া থানার হাজীপুর পশ্চিম বিলের পাড় এলাকার মরহুম ইসমাইল আলী ছেলে মো: সালাউদ্দিন (২৯), কমলগঞ্জ থানার শমসের নগরের সতিজিরগ্রাম এলাকার আসুক আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম মামুন (২৮)।
তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, হলুদ রঙয়ের প্লাস্টিকের বাটসহ কাটার, স্টিলের তৈরি সুইস গিয়ার ছুরি, লোহার তৈরি রাম দা, লোহার তৈরি ছোরা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার আসামি মো: কাউছার মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মোট ১১টি মামলা, জসিম মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মোট ১২টি মামলা ও মো: সালাউদ্দিনের (২৯) বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মোট নয়টি মামলা রয়েছে।
অপর অভিযানে কুলাউড়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের টিম অভিযান পরিচালনা করে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সর্দার দেলোয়ার হোসেন ওরফে আহাদ মিয়াকে (৪৬) গ্রেফতার করে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজার সদর থানার হাসপাতাল রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আহাদ মিয়া রাজনগর থানার কদম হাটা এলাকার মরহুম মোস্তফা মিয়ার ছেলে। আসামি আহাদ মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মোট ১৪টি মামলা রয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, মৌলভীবাজার জেলায় অপরাধ দমন, অবৈধ মাদক উদ্ধার, আসামি গ্রেফতার এবং জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চোরাচালান রোধ ও মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহিৃতকরণ এবং গ্রেফতারে জেলা পুলিশ গুরুত্বের সাথে কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় আন্তঃজেলা ডাকাতদলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতার আসামিদের শুক্রবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়।



