বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
এদিকে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে শেষকৃত্য শেষে লাশ দাহ করা হবে। এর আগে প্রিয় কর্মস্থলে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অশ্রুসজল নয়নে সহকর্মীরা ফুলেল শ্রদ্ধায় প্রিয় সহকর্মীকে চিরবিদায় জানান। স্বজন ও সহকর্মীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে কাস্টমস অফিসের পরিবেশ।
আগামী ২৭ এপ্রিল এক বছরে পা দেয়ার কথা বুলেট বৈরাগীর শিশুপুত্র অব্যয় বৈরাগীর। এর ঠিক দু’দিন আগেই বাবাকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন নিহতের স্ত্রী উর্মী হীরা।
এদিকে নিহত বুলেট বৈরাগীর মা নিলীমা বৈরাগী অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলের মৃত্যু কোনোভাবেই দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তিনি খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান সরদার জানান, বুলেট বৈরাগী কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। গত ১১ এপ্রিল সরকারি প্রশিক্ষণে যোগ দিতে তিনি চট্টগ্রামে যান।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে পরিবারের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ফোন করে জানান, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। তার সহকর্মী বুলেট বৈরাগীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সব ধরনের সহযোগিতা করবে কাস্টমস অফিস বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কুমিল্লা ইসতিয়াক হাসান আমিন জানান, ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত লাশ মহাসড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে আইরিশ হোটেলের পাশে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।



