আমিরাতে আটকা পড়েছে বিএসসির জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’

জাহাজটি গত শুক্রবার কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ওই বন্দরে নোঙ্গর করে। শনিবার রাতে জাহাজটির অদূরে মিসাইল হামলা হয়।

নূরুল মোস্তফা কাজী, চট্টগ্রাম ব্যুরো

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।

জাহাজটি গত শুক্রবার কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ওই বন্দরে নোঙ্গর করে। শনিবার রাতে জাহাজটির অদূরে মিসাইল হামলা হয়।

জাহাজের ৩১ জন নাবিকের সবাই নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে বিএসসি কর্তৃপক্ষ। তবে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী এসব নাবিক ও ক্রুদের পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন বলে জানা গেছে।

বিএসসি সূত্র জানিয়েছে, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বন্দরে জাহাজটির পণ্য খালাস কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। তবে গতকাল সোমবার আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় পণ্য খালাস শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্র।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক নয়া দিগন্তকে বলেন, “সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকা পড়া এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজে ৩১ জন নাবিক-ক্রু আছে। জাহাজে স্টারলিংকের সংযোগ থাকায় উচ্চ ব্যান্ডউইথ সম্পন্ন যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে। ফলে জাহাজে থাকা নাবিক-ক্রুরা তাদের পরিবারের সাথে অনায়াসেই সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারছে। এরই মধ্যে জাহাজের মাস্টারের সাথে জুম বৈঠক হয়েছে। যখন প্রয়োজন হয় ভিডিও কলে কথা হচ্ছে। সবাইকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।”

জাহাজে পানি-খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নাবিক-ক্রু প্রতি দৈনন্দিন খরচ বাবদ প্রদেয় ৭ ডলারের সাথে আগামী ১৫ দিনের জন্য আরো ৫ ডলার করে বাড়তি অর্থ দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, জাহাজে থাকা পণ্য খালাসের কার্যক্রম স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ শুরু হবে এবং ৭৫ শতাংশ পণ্য সেখানে খালাস হবে। তাতে অন্তত ৭/৮ দিন লেগে যাবে। এরপর জাহাজটি কুয়েত গিয়ে সালফার বোঝাই করার কথা রয়েছে।

কিন্তু যদি পরবর্তী গন্তব্যে নিরাপদ পরিবেশ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না যায় তবে তবে জেবেল আলী বন্দর ত্যাগের অনুমতি দেয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সব সময়ই আমাদের ২/৩টি জাহাজ বিভিন্ন বন্দরে থাকে। ভাগ্যক্রমে এই পরিস্থিতিতে একটিমাত্র জাহাজ রয়েছে। এটি ছাড়াও বিএসসির মালিকানাধীন আরো ছয়টি জাহাজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, লাইবেরিয়া, পাকিস্তান, সেনেগাল ও রাশিয়ার বিভিন্ন বন্দরে রয়েছে এবং এগুলো নিরাপদে আছে।