শরীয়তপুরে চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন এমন অভিযোগ তুলে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালান।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

Location :

Shariatpur
হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর এবং চিকিৎসকের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, হাসপাতাল কর্মচারী ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা: রেহান উদ্দিন, সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: আকরাম এলাহী, ডা: মফিজুর রহমান স্বপন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, হাসপাতাল মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হবে। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৫ মে) রাতে সদর উপজেলার উত্তর বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী নামে এক ব্যক্তি বুকে ব্যথা নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ‍দিবাগত রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন এমন অভিযোগ তুলে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালান। হামলায় দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা: মো: নাসির ইসলাম মারাত্মক আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বর্তমানে আইসিউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও হাসপাতালের আনসার সদস্যসহ আরো পাঁচজন আহত হন।

এ ঘটনায় শরীয়তপুর হাসপাতালের অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট ডা: মোহাম্মদ আকরাম এলাহী পালং মডেল থানায় ১১ জনকে এজহার নামীয়সহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পালং মডেল থানা পুলিশ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।