মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসের সাথে কোনো আপস নয় : বিমানমন্ত্রী

‘বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসেই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

মো: শাহানুর ইসলাম, মানিকগঞ্জ

Location :

Manikganj
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের মাঝে সরকারের অনুদানের চেক হস্তান্তর করছেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের মাঝে সরকারের অনুদানের চেক হস্তান্তর করছেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা |নয়া দিগন্ত

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ‘মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসদের সাথে কোনো আপস নয়। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি জনগণের খেদমত করার জন্য। জনগণের কষ্ট হবে, জনগণ লাঞ্চিত হবে, জনগণের ওপর জুলুম হবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তাঘাটের কাজ নিয়ে ঠিকাদারদের টালবাহানার কোনো সুযোগ নেই।‘

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস পক্ষ-২০২৬, জেলা সমন্বয় কমিটি, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনের লোকজনকে অবশ্যই যার যার ডিপার্টমেন্টের কাজ করতে হবে। অপকর্মের কোনো ছাড় নাই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢিলেঢালা কাজ করলে হবে না; বরং এখন থেকে আমি সবার কাজের অগ্রগতি দেখব। আমাদের সবাইকেই জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে।’

রিকশা-অটোচালক কেউ যেন অযথা পুলিশের হয়রানির শিকার না হয় সেই বিষয়ে তিনি সর্তক করে বলেন, ‘সবাইকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বপ্রণোদিত হয়ে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সারাদেশের মতো মানিকগঞ্জেও জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপিত হচ্ছে। মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মৎস্য অধিদফতর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মৎস্য চাষিদের যেকোনো ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের মানুষের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণে দেশীয় মাছের কোনো বিকল্প নেই। দারিদ্র্য বিমোচন ও জাতীয় অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ করতে মৎস্য চাষকে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয় ও সম্প্রসারিত করতে হবে।’

বিমান ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসেই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সম্মানার্থে পর্যটন করপোরেশনের অধীনে হোটেল-মোটেল ও বিমান ভাড়ায় বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য ন্যায্য বিমানভাড়া নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের সকলের সহযোগিতায় বিমান খাতের সকল সিন্ডিকেট নির্মূল করতে সক্ষম হতে পারব বলে আশা রাখি।’

এ সময় তিনি প্রবীন লোকশিল্পী, লেখক-গায়ক বাংলা অ্যাকাডেমির ফেলো সাইদুর রহমান বয়াতীসহ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের মাঝে সরকারের অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলীর পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার (এসপি) সারওয়ার আলম, সিভিল সার্জন ডা: আইভি ফেরদৌস, জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো: শাহজাহান সিরাজ, পাওয়ার গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস মাহমুদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী পরিচালক মো: আক্তারুজ্জামান প্রমুখ।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মন্ত্রীর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে মন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য চাষকে তৃণমূল পর্যায়ে আরো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিকেলে মন্ত্রী জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত বির্তক প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয়ে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।