হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে উভয় পক্ষে গুরুতর আহত ৩০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এসময় পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কারখানা বোয়ালজোর গ্রামে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণ ও সরকারী গোপাট নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ওই গ্রামের আব্দূল খালিছ, আব্দুল বাহার গংদের সাথে একই গ্রামের নামদার মিয়া ও সুমন গংদের বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে দুপক্ষের উত্তেজনা চলছিল। এদিন সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এসময় উভয় পক্ষের নারী পুরুষ সহ প্রায় ৫০ জন আহত হন। এদর মধ্যে গুরুতর আহত ৩০জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
গুরুতর আহতরা হলেন- আব্দুল খালিছ, আব্দুল বাহার, নামদার মিয়া, সুমন মিয়া, নজরুল মিয়া, সামাদ মিয়া, জাকির মিয়া, রুহেল মিয়া, তকলিছ মিয়া, কমরুল মিয়া ও রেহানা বেগম প্রমুখ। সংঘর্ষের সময় পুলিশ পিকআপ দিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র থেকে উদ্ধার করেছে।
কারখানা গ্রামের আব্দুল বাহার জানান, কোনো উত্তেজনা ছাড়াই সকালে নামদার মিয়া ও সুমনের গ্রুপের লোকজন আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা করেছে। আমাদের নারী পুরুষসহ ২৫ জন কে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কারখানা গ্রামের সুমন মিয়া বলেন, ‘আমাদের সাথে খালিছ মিয়া গংদের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গালাগালি করলে সংঘর্ষ হয়। আমাদের পক্ষে অনেক আহত আছেন এর মধ্যে ১০/১২ জনকে সিলেট নেয়া হয়েছে।’
ইউপি সদস্য শাহ সুলতান আহমদ বলেন, ‘তিনি এলাকায় নেই, তবে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ হয়েছে বলে জেনেছেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।’
নবীগঞ্জ থানার ওসি মোনায়েম মিয়া জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের লোকজন মামলা দেননি। মামলা হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের(টিএইচও) স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আব্দুস সামাদ বলেন, ‘তাদের এখানে উভয় ঘটনায় শতাধিক লোক চিকিৎসা নিয়েছেন।’



