সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের সবচেয়ে বড় বোরো ধানের ভাণ্ডার খ্যাত পাকনার হাওরের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের গজারিয়া খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক ড. মো: ইলিয়াস মিয়া।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) উদ্যোগে এক কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এক দশমিক ৫১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গজারিয়া বাজার এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করেন।
ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘কৃষকরা আমাদের দেশের মূল চালিকা শক্তি। হাওর এলাকার কৃষকদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক। কৃষকের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। গজারিয়া খাল পুনঃখনন হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
এক ফসলি এ হাওরের চাষযোগ্য জমিতে হাওর সংলগ্ন অন্তত ৪০টি গ্রামের কৃষক ধান উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে হাওরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমিতে বোরো ধান চাষ করা যেত না। চলতি বছরও জলাবদ্ধতার কারণে অন্তত ৫০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রকারভেদে প্রতি হেক্টরে চার থেকে সাত মেট্রিক টন ধানের উৎপাদন হলেও গড়ে পাঁচ মেট্রিক টন হিসাব করলে প্রায় তিন হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন কম হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় আট কোটি টাকা।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, প্রকল্পের কাজের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও দ্রুত খনন কাজ সম্পন্ন করা গেলে চলতি মৌসুমেই বোরো ধান চাষ করা সম্ভব হবে। তারা কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির দাবি জানান।
জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওর জেলার অন্যতম বড় হাওর। বর্ষা মৌসুম শেষে এ হাওরে প্রধানত বোরো ধান চাষ হয়। ফেনারবাঁক গ্রামের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন এ কাজে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মামুন হাওলাদার বলেন, ‘গজারিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পাকনার হাওরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাউবো’র পরিচালনা পরিষদের সদস্য নুরুল হক আফিন্দী, ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: জাকির হোসেন, পাউবো’র কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



