কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে ‘হাদির মতো হত্যা’ করার হুমকি দিয়ে ডাকযোগে কাফনের কাপড়সহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে শাহজাহান চৌধুরী নিজেই উখিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অজ্ঞাত পরিচয়ের একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে ভয়ভীতি দেখাতে ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠায়, যার সাথে ছিল কাফনের কাপড়। চিঠির ভাষায় সরাসরি হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, এই হুমকি মূলত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শাহজাহান চৌধুরীর জনপ্রিয়তা ও গণভিত্তিকে ভীত করার অপচেষ্টা। তাদের ভাষায়, শাহজাহান চৌধুরীকে হুমকি দিয়ে তার জনপ্রিয়তা কমানো যাবে না। এ ধরনের কাজ জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর আহমদ বলেন, ‘অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হুমকিদাতাদের শনাক্তে ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাইসহ সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ঘটনাটি নিয়ে নির্বাচন কমিশনও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছে। এ বিষয়ে এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা একযোগে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়া শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, শাহজাহান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা রেখে আসছেন। চারবারের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এ ধরনের হুমকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি নিবিড়ভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।



