নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালক মো: সোহেল মিয়া হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজন ও চোরাই অটোরিকশা কেনা-বেচার সাথে জড়িত তিনজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। একইসাথে ছিনতাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মোস্তফা কামাল রাশেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার পাঁচজনকে আজ দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন হলেন— হত্যার সাথে জড়িত মো: সুজন মিয়া (৩৩) ও মো: শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯)। চোরাই অটোরিকশা কেনা-বেচার সাথে জড়িত মো: দুলাল মিয়া (৪৫), মো: আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫) ও মো: আবুল কাশেম (৪০)। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি রূপগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, নিহত সোহেল মিয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন তিনি। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার মোবাইলফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশে একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পরিবার। ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি সোহেলের বলে শনাক্ত করে তার পরিবার। লাশের নাক, মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো: মহসিন মিয়া সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি পিবিআই অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।
পিবিআই প্রেস বিফিংয়ে জানায়, অর্থের অভাবে আসামি সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার বিকেলে তারা সোহেলের অটোরিকশা ভাড়া করে স্থানীয় একটি বাজারে যান। সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে সোহেলকে খাওয়ানো হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তাকে মুছারচর এলাকার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোহেলের হাত, নাক ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি রূপগঞ্জ এলাকার একটি গ্যারেজে রাখা হয়। পরে তা বিক্রি করা হয়। অটোরিকশা কেনা-বেচার সোথে জড়িত তিন আসামি জিজ্ঞাসাবাদে চোরাই অটো কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইকৃত ও চোরাই অটোরিকশা কেনা-বেচার সাথে জড়িত বলেও জানিয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো: মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) জানান, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।



