চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চাঞ্চল্যকর নুরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি দিদারুল আলম দিদারকে (৪৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেইসাথে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র।
রোববার (২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানাধীন গাদাবাগ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি দিদার জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় তিনি সহযোগী আকিলকে সাথে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সঙ্ঘটিত করেন।
পরে আসামির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামির নিজ বাড়ি সংলগ্ন গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বড় ছুরি, একটি এলজি ও তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জাহেদুর রহমান জানান, গ্রেফতার আসামি দিদারের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ছয়টি সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। অপরদিকে তার সহযোগী মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ আকিলের বিরুদ্ধেও চারটি মামলা ও এক বছরের সাজা পরোয়ানা মূলতবি ছিল।
হাটহাজারী সার্কেলের এডিশনাল এসপি তারেক আজিজ জানান, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাস, মাদক ও সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধের সাথে জড়িত কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। গোয়েন্দা তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাদার আভিযানিক কৌশলের সমন্বয়ে পলাতক ও চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ১০ জুলাই সকালে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পশ্চিম মেখল এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে মেয়ের সামনে তার বাবা মুহাম্মদ নুরুল আজিমকে (৪৮) প্রথমে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
ওই দিনই নিহতের পরিবার দিদারকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করে। পর চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মামলার এজাহার নামীয় আসামি মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ আকিল ও মো: আলী আকবরকে গ্রেফতার করে। তবে, মূল পরিকল্পনাকারী দিদার বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রামের বাকলিয়া, রাউজান, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি, সিলেটের গোয়াইনঘাট ও সর্বশেষ ঢাকার কেরানীগঞ্জে আত্মগোপন করে।
পুলিশের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং ধারাবাহিক অভিযানের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি গ্রেফতার এড়াতে ব্যর্থ হন।



