বিএনপির সাথে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ‘দখলের পরিকল্পনা’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন কমিশনসহ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দলীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিরসরাইয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত লংমার্চের পথসভায় এসব কথা বলেন আখতার হোসেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি সংস্থা, প্রত্যেকটা জায়গায় সরাসরি দলীয় রাজনীতি করা পদধারী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এমন একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যিনি বিএনপির দলীয় রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত।’
তিনি বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তার আগে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির দলীয় লোককে বসানোর পেছনে কি উদ্দেশ্য? এতেই স্পষ্ট বোঝা যায়, বাংলাদেশে সামনের নির্বাচনগুলোতে দখলদারিত্ব করার নতুন প্ল্যান শুরু হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, এই বাংলাদেশে আর আওয়ামী স্টাইলের একতরফা, রাতের ভোটের কিংবা দখলদারিত্বের নির্বাচন আমরা হতে দেবো না।’
আখতার হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও দলীয় লোকজনকে প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে। অথচ তারা নির্বাচন দেয়ার কথা বলেছিল। এখন ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশনে নির্বাচন দেয়ার বিষয়ে তাদের আর কোনো হুঁশ নেই।’
ছয় দফা দাবিতে শুরু হওয়া লংমার্চের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এ কর্মসূচির পক্ষে ঐক্য তৈরি হয়েছে। জনতার এই জোয়ার থামানো আর সম্ভব নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের প্রতি যে চক্রান্ত আপনারা চালিয়ে যাচ্ছেন, যে দুঃসাহস দেখাচ্ছেন, তা থেকে ফিরে আসুন। জনগণের ইচ্ছাকে স্বীকার করে গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায় অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন।’
এমপি আখতার হোসেন বলেন, ‘একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আরেকটি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি। শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ কিংবা এই চট্টগ্রামের অধিবাসীরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই জীবন দিয়েছিল। সেই পথেই আমাদের ওসমান হাদী ভাইকে শাহাদতবরণ করতে হয়েছে। আমরাও শাহাদতবরণ করতে প্রস্তুত, কিন্তু বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদকে আসতে দেবো না।’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদী ছিল, মানুষকে খুন-গুম করেছে এবং আলেম-ওলামাদের নির্যাতন করেছে, তাদের অনেকে এখনো মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিরোধীদলের আমাদের বন্ধুদের গ্রেফতার না করে ওই আওয়ামী দোসরদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসুন।’
লংমার্চে অংশ নেয়া সাধারণ জনতার উদ্দেশে আখতার হোসেন বলেন, ‘এত মানুষ কষ্ট করে, রোদে পুড়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে আছেন, মিছিলে এসেছেন। আপনাদের হয়ে আমরা কথা বলব। ঢাকা থেকে যারা এসেছি, আপনাদের কথা দিচ্ছি– সংসদে ও সংসদের বাইরে যেখানেই সুযোগ পাব, জনতার পক্ষে কথা বলব। বাংলাদেশে আমরা স্বাধীনতার লড়াই চালিয়ে যাব।’



