বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করতে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন।
সোমবার রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান এবং খাদ্য সচিব মো: ফিরোজ সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন উচ্চমানের গমের আগমন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এই চালানটি মোট ১ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি একটি বৃহত্তর গম সরবরাহের অংশ, যার মধ্যে ওয়াশিংটন, ওরেগন এবং আইডাহো থেকে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সফট হোয়াইট জাতের গম এবং মনটানা ও নেব্রাস্কা থেকে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন হার্ড রেড উইন্টার জাতের গম অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশ বছরে তার মোট গমের চাহিদার মাত্র ১৩ শতাংশ উৎপাদন করতে সক্ষম। এ কারণে, এই তিনটি চালান উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর শস্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রফতানির জন্য বাংলাদেশ যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে ক্রমশ আরো বড় ভূমিকা নিচ্ছে এই ঐতিহাসিক সরবরাহগুলো তার প্রতিফলন।
ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র মিশনের মুখপাত্র পূর্ণিমা রাই জানিয়েছেন, গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ কর্তৃক মনোনীত গমচাষিদের বাণিজ্য সংগঠন ইউ.এস. হুইট অ্যাসোসিয়েটসের (ইউএসডব্লিউএ) সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যার আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৭ লাখ মেট্রিক টন যুক্তরাষ্ট্রের গম ক্রয় করবে।
এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে, শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্পের মাধ্যমে তিনটি বিক্রয় চুক্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন গম ক্রয় করেছে, যার মধ্যে সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে আমেরিকার সমৃদ্ধিকে যেমনি এগিয়ে নেয়, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য পুষ্টিকর গমের সরবরাহ নিশ্চিত করকে বলেও তিনি জানান।



