‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে আধিপত্যবাদের কবর হবে, ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না’ বলে মন্তব্য করছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গফরগাঁও আদর্শ শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর প্রচারণা ও নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিবির সভাপতি আরো বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দল ‘না’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইনিং করছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের স্লোগানের পক্ষে প্রচারণা চালালেও তাদের কথার সাথে কাজের মিল নেই। মুনাফিকি কথাবার্তা দিয়ে বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা তাদের পুরোনো অভ্যাস।
ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গফরগাঁও আসনের ইনসাফের প্রতিনিধি মাওলানা ইসমাঈল হোসেন সোহেল ভাইকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে হবে। ইনসাফের প্রতীক ও তারুণ্যের প্রতীককে বিজয়ী করার মাধ্যমে আমাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বিশাল নির্বাচনী সমাবেশের প্রধান আর্কষণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একটি ভোট হবে গণভোটের পক্ষে, যেখানে আমরা ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করব। এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো আজাদি, এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো ইনসাফ।’
তিনি আরো বলেন, এই ‘হ্যাঁ’ মানে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার। ‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়া। তিনি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে গফরগাঁও আসনে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
পাগলা থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মোফাজ্জল আনসারীর সঞ্চালনায় বিশাল সমাবেশে প্রধান আলোচক ছিলেন ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ইসমাঈল হোসেন সোহেল।
তিনি বলেন, ইনসাফ আর পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত গফরগাঁও-পাগলায় মাটি ও মানুষ। বিজয় এবার দাঁড়িপাল্লার এটি সুনিশ্চিত।
এমদাদুল হক আরো বলেন, আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে গফরগাঁও থেকে চিরতরে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত করে ছাড়ব। ইনশাআল্লাহ। এই দেশকে শোষণমুক্ত হিসেবে গড়তে উপস্থিত সকলকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল করিম, ডাকসু পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী।
নির্বাচনী সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাইফুল ইসলাম, পাগলা থানা জামায়াতের সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার মহাসচিব অধ্যক্ষ একরাম উল্লাহ, গফরগাঁও উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মমিনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শেগোজোল ইলিয়াস আহমেদ ফরাজি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য মাজহারুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো: মনিরুজ্জামান, পাগলা থানা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পরে আমরা অনেক এমপি বানিয়েছে, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। তারা আমাদের প্রতারিত করেছে। আমরা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চাই।
বক্তারা আরো বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মসহ সর্বস্তরের নাগরিকরা ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যার প্রমাণ মিলেছে বিগত পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে। আগামী নির্বাচনেও ইনসাফ ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে।
এর আগে দুপুর থেকেই হাজার হাজার জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।



