জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রতিপক্ষের তিন নারীসহ কমপক্ষে পাঁচজনকে মারধর করে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধর করতে দেখা গেছে হাবিবুল্লাহকে।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি) মহাসড়কের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে লুটপাট ও হত্যাচেষ্টা মামলা রুজু হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম হামলা ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহতরা হলেন, বেড়াইদেরচালা এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী সমলা খাতুন (৯৫), মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০), আতিকুলের স্ত্রী মাসুদা আক্তার (৪২), তার মেয়ে বিথী আক্তার (২৫)। গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। অন্যদেরকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার পর রোববার (৩১ মে) বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে নিয়ে যায় স্বজনরা।
আসামিরা হলেন- একই এলাকার মৃত হুসেন আলীর ছেলে হাবিবুল্লাহ (৪৮), তার ভাই সুলতান উদ্দিন (৫০), ফয়সাল (৩০), ফাহাদ (২৮) নুজবেল (২৫), আমিনুল (২৮), হেলাল (৩৮), রাজিব (৩৫), শহিদুল (৪৫) ও আমানত (২৫)। ঘটনার পর থেকে আসামিরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
হামলায় নেতৃত্ব দেয়া প্রধান আসামি হাবিবুল্লাহ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের শ্রীপুর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।
আসামিরা পালিয়ে থাকায় এবং তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে রোববার (৩১ মে) ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।



