সিরাজদিখানে অপহরণের ৫২ দিন পর বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে একটি গরুর খামারের রান্নাঘরের মেঝের নিচে লাশ গোপন করা হয়েছিল।

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ

Location :

Munshiganj
পুলিশের হাতে গ্রেফতাররা
পুলিশের হাতে গ্রেফতাররা |নয়া দিগন্ত

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় অপহরণের ৫২ দিন পর আওলাদ হোসেন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে একটি গরুর খামারের রান্নাঘরের মেঝের নিচে লাশ গোপন করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, গত ৯ মে জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন আওলাদ হোসেন। পরদিন তার ভাই সিরাজদিখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২৩ মে নিহতের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন বাদি হয়ে আওলাদের স্ত্রী রানী বেগম, মানিক বেপারীসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে অপহরণের মামলা করেন।

মামলার তদন্তে গত ৩১ মে মানিক বেপারীকে আটক করা হয়। পরে ৩০ জুন সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে রিপন ও বিন আমিন শেখকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো স্থান অনুযায়ী চাইনপাড়া গ্রামের একটি গরুর খামারের রান্নাঘরের মেঝের নিচ থেকে আওলাদ হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর আওলাদ হোসেন রানী বেগমকে বিয়ে করেন। পরে জমিজমা স্ত্রীর নামে লিখে দিতে অস্বীকৃতি এবং দ্বিতীয় বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে রানী বেগম তার ভগ্নিপতি মানিক বেপারী এবং সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে আওলাদ হোসেনকে হত্যা করে লাশ গোপন করে।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’