কোস্টগার্ডের অভিযানে সাড়ে ১৯ হাজার লিটার তেল উদ্ধার

জেট ফুয়েলের ট্যাংক লরি চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে না গিয়ে চলে যায় চোরাকারবারিদের আস্তানায়। আর সেখানে সুইমিং পুলের আদলে স্থাপনা বানিয়ে সংরক্ষণ করা হয় চোরাই জেট ফুয়েল। এছাড়া ড্রাম ভর্তি অবস্থায় পাওয়া যায় ডিজেল ও অকটেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
কোস্টগার্ডের অভিযানে সাড়ে ১৯ হাজার লিটার তেল উদ্ধার
কোস্টগার্ডের অভিযানে সাড়ে ১৯ হাজার লিটার তেল উদ্ধার |নয়া দিগন্ত

জেট ফুয়েলের ট্যাংক লরি চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে না গিয়ে চলে যায় চোরাকারবারিদের আস্তানায়। আর সেখানে সুইমিং পুলের আদলে স্থাপনা বানিয়ে সংরক্ষণ করা হয় চোরাই জেট ফুয়েল। এছাড়া ড্রাম ভর্তি অবস্থায় পাওয়া যায় ডিজেল ও অকটেন।

সোমবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় কোস্টগার্ডের অভিযানে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এছাড়া পৃথক অভিযানে পাঁচ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।

সংবাদিকদের ব্রিফ করেন কোস্ট গার্ডের সিগন্যাল কমিউনিকেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট হাসিব-উল-ইসলাম।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন ভিআইপি রোড সংলগ্ন এলাকায় সোমবার দিবাগত রাতে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সেই এলাকায় অবৈধভাবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মজুদ তেলের গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ২৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের সাত হাজার লিটার জেট ফুয়েল, ছয় হাজার লিটার ডিজেল, দেড় হাজার লিটার অকটেন এবং সেই জ্বালানি তেল বহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একটি জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানির ডিপো থেকে ট্যাংকলরিতে করে জেট ফুয়েল নেয়া হয়েছিল শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরবরাহের জন্য। কিন্তু সেটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে যায় চোরাকারবারিদের কাছে। সেখানে ছোট সুইমিংপুলের মতো স্থাপনায় জেট ফুয়েল সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন ড্রামে রাখা ছিল ডিজেল ও অকটেন।

অপরদিকে, চট্টগ্রামের ইপিজেড থানাধীন আকমলআলী সুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় একইদিন দিবাগত রাতে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে ঘাট সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে জাহাজ থেকে অবৈধভাবে খালাসকৃত প্রায় নয় লাখ টাকা মূল্যের পাঁচ হাজার লিটার ভোজ্যতেল (সয়াবিন) জব্দ করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, দু’টি অভিযানেই আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

জ্বালানি ও ভোজ্য তেল চোরাকারবারির সাথে সংশ্লিষ্ট মূলহোতাদের আটকে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে অন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়।

জব্দ জ্বালানি ও ভোজ্যতেল এবং ট্রাকের আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চোরাকারবারি রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়।

এদিকে জেট ফুয়েল চুরির চেষ্টার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পদ্মা অয়েল পিএলসি ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

একইসাথে চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপক সোহেল ইদ্রিস, চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা মিল্টন রায়, কর্মী মো: ইদ্রিস এবং ট্যাংকলরির চালক মো: জসিম উদ্দিন।