পদ্মায় নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলে নিখোঁজ, ৬ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার

চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে আটজন যাত্রী ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ফিরছিলেন। বড়কুঠি এলাকার মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর হঠাৎ প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে নৌকাটি দুলতে শুরু করে। একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
পদ্মায় নৌকাডুবি
পদ্মায় নৌকাডুবি |নয়া দিগন্ত

রাজশাহীর পদ্মানদীতে চর থেকে ঝাউগাছ কেটে ফেরার পথে মাঝনদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে বাবা ও ছেলে নিখোঁজ হয়েছেন। তবে স্থানীয় মাঝি ও ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় নৌকায় থাকা অপর ছয় যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নগরীর বড়কুঠি এলাকার পদ্মানদীর মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজরা হলেন— রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকার বাসিন্দা আফছার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকাডুবির পর তিনি নদীর স্রোতে ভেসে যেতে থাকলে স্থানীয় মাঝিরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। একইভাবে আরো পাঁচজন যাত্রীকে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে আটজন যাত্রী ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ফিরছিলেন। বড়কুঠি এলাকার মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর হঠাৎ প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে নৌকাটি দুলতে শুরু করে। একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কেউ সাঁতরে বাঁচার চেষ্টা করেন, কেউ আবার নদীর স্রোতে ভেসে যেতে থাকেন।

নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা দেখতে পেয়ে পদ্মা গার্ডেন সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অন্যান্য নৌকার মাঝি ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুলকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রবল স্রোতে তারা মুহূর্তেই তলিয়ে যান বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ছয় সদস্যের ডুবুরি দল পালাক্রমে নদীর তলদেশে তল্লাশি চালায়। পাশাপাশি নৌকা নিয়ে নদীর বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিখোঁজ বাবা-ছেলে কিংবা ডুবে যাওয়া নৌকার কোনো সন্ধান মেলেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপপরিচালক মনজিল হক বলেন, ‘নিখোঁজ দু’জনকে উদ্ধারে আমাদের ছয় সদস্যের ডুবুরি দল কাজ করছে। দুইজন করে পালাক্রমে পানির নিচে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নৌকা দিয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজন হলে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চলবে।’

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে পদ্মানদীতে স্রোত ও ঢেউ অনেক বেশি থাকায় নৌযান চলাচলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অতিরিক্ত মালামাল বা যাত্রীবহন এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তারা নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।