ত্রিশালে ছাত্রদল নেতাকে মারধর করে ধরে নেয়ার চেষ্টা ভুয়া ডিবি পুলিশের

মারধরে আহত হয়ে হাসপাতালে

এ সময় পথরোধ করে তাকে দাঁড় করায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে পাঁচ সদস্য। তড়িঘড়ি করে তার হাতে পরানো হয় হাতকড়া।

Location :

Trishal
ত্রিশালে ছাত্রদল নেতাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী কয়েকজন
ত্রিশালে ছাত্রদল নেতাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী কয়েকজন |নয়া দিগন্ত

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম নোমানকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মারধর করে ধরে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এসময় তার ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হলে পালিয়ে যায় ভুয়া ডিবি পুলিশ।

তাদের পিটুনীতে গুরুতর জখম হওয়া ছাত্রদলনেতা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম নোমান বুধবার রাত ১০টার দিকে গফাঁকুড়ি বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় পথরোধ করে তাকে দাঁড় করায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে পাঁচ সদস্য। তড়িঘড়ি করে তার হাতে পরানো হয় হাতকড়া। পাঁচজনের মধ্যে দুইজন ডিবি লেখা পোশাক পরিহিত ছিল।

তারা নোমানকে মারধর করে গাড়িতে উঠানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তাকে গাড়িতে না উঠিয়ে তার কপালে একাধিক ছুরিকাঘাত ও মারধর করতে করতে যখন নির্জন মাঠের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল তখন ওই যুবকের মনে সন্দেহ জাগে। তিনি সজোরে চিৎকার দিতে থাকলে তার ডাক-চিৎকারে ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকে এলাকাবাসী। কেন তাকে আটক করা হয়েছে উপস্থিত এলাকাবাসীর এমন প্রশ্ন ও অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ভুয়া ডিবি পুলিশ।

তারা পালিয়ে যাওয়ার পর আহত ছাত্রদল নেতার বড় ভাই এনামুল করিম ফরহাদ ময়মনসিংহ জেলা ডিবি পুলিশ ও ত্রিশাল থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ডিবি পুলিশের কোনো ফোর্স সেখানে কোনো অভিযানে বের হয়নি।

হাতকড়া পরা অবস্থায় আহত নোমানকে চিকিৎসার জন্য ত্রিশাল সদরে নিয়ে এলে ওই হাতকড়া খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় থানা পুলিশ। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা হাতকড়াটি কেটে দেন। এরপর তাকে ভর্তি করা হয় ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে মিলেছে একটি খেলনা পিস্তল।

নোমানের বড়ভাই এনামুল করিম ফরহাদ বলেন, ‘খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তাদের কাছে জানতে চাই আমার ভাইয়ের কী অপরাধ? কেন ধরেছেন? মারছেন কেন? আপনাদের কাছে কোনো ওয়ারেন্ট ইস্যু আছে? অস্ত্র আর ওয়াকিটকি কোথায়? এরপর তারা উত্তর দিচ্ছি বলে ভুঁ-দৌড়ে তাদের বহন করা সিএনজি অটোরিকশাযোগে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

আহত নোমান জানান, ‘ঢাকা যাওয়ার জন্য বাজার থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম প্রস্তুতি নিতে। এমন সময় রাস্তায় পাঁচজন লোক আমার পথরোধ করে তাৎক্ষণিক হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করে এবং মাথায় আঘাত করতে থাকে। তাদের মধ্যে দু’জনের পরনে ডিবি লেখা পোশাক পরিহিত ছিল। আমার ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী এসে আমাকে উদ্ধার করে।’

ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাদিকুর রহমান জানান, ‘থানা পুলিশ হাতকড়াটি কেটে দিতে বলায় আমরা কেটে দেই।’

ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ হোসেন জানান, ‘বিষয়টি অবগত হয়েছি। এখনো মামলা হয়নি, তবে ভুয়া ডিবি পুলিশ কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।’