রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুন

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন শান্ত দাস

রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় আদালতে সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মাদক কারবারির সাথে জড়িত শান্ত দাস।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন শান্ত দাস
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন শান্ত দাস |নয়া দিগন্ত

রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় আদালতে সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মাদক কারবারির সাথে জড়িত শান্ত দাস। খুনের আগে শান্ত দাসের কাছেই মোবাইল বন্ধক রেখে ইয়াবা কিনেছিল সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারকের আদালতে সাক্ষী হিসেবে শান্ত দাস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, ‘শান্ত দাস স্থানীয় বাদল দাসের ছেলে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে আনলে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ যে তার কাছ থেকে মোবাইল বন্ধক রেখে ইয়াবা কিনেছিল, সেটা স্বীকার করে। সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিতে চাইলে তাকে আমরা কোর্টে উপস্থাপন করি। সে আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাক্ষ্য প্রদান করে।’

রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, জবানবন্দিতে শান্ত দাস আদালতকে জানায়, ২১ আগস্ট প্রথমে রাত ৯টায় ৩টি এবং পরে ভোর ৪টার দিকে ৫টি ইয়াবা ক্রয় করে। সিদ্ধার্থ ৩ হাজার ৫০০ টাকায় শান্তর কাছে মোবাইল বন্ধক রেখে ইয়াবাগুলো ক্রয় করে। পরের দিন শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চকচকে নতুন টাকা দিয়ে সেই মোবাইল ফোন ছাড়িয়ে আনে।

এর আগে দুপুরে শান্তকে আদালতে তোলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি জিন্নাত আলী।

মাদক কারবারি হলেও কেন তাকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সনাতন চক্রবর্তী জানান, ‘শান্ত দাস মাদক কারবারি হলেও তার নামে কোনো মাদকের মামলা নেই। এছাড়াও আমরা যখন তাকে আটক করে আনি, তখনো তার কাছে কোনো মাদকও পাওয়া যায়নি। তবে সে সেবনের সাথে জড়িত সেটা স্বীকার করেছে। আটকের সময় আমরা তাকে সেবন অবস্থায় পাইনি। সে কারণে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি।’

গেল ২১ আগস্ট ভোরে রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ার তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, কন্যা কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে সদ্য মাস্টার্স করা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী, ছেলে জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম। ২২ আগস্ট রাত ১১টা থেকে ২৩ আগস্ট ভোর রাত ৫টা পর্যন্ত তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস এবং মুগ্ধ দাস নামে দুইজনকে ২৩ আগস্ট ভোরেই গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা সেদিন রাতেই রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এছাড়াও ২৫ আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের বন্ধু সীমান্ত। সেই রাতে প্রথমে সীমান্তের ঘরে ইয়াবা সেবন করেছিল তারা। ২৬ আগস্ট একই আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেয় দখিগঞ্জ শ্মশানের পাহারাদার (ডোম) বিদ্যুৎ দাস। মুগ্ধ গ্রেফতারের আগে ওই শ্মশানে গিয়ে বিদ্যুতের কাছে আশ্রয় চেয়ে বলেছিল হত্যাকাণ্ডের কথা।

এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করছেন রংপুরের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষার্থীরা।