সারাদেশের সাথে একযোগে আজ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ফলাফলে শিক্ষার মানের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে পাসের হার ২০ শতাংশের কাছাকাছি, কোথাও তারও নিচে। শিক্ষকসঙ্কট ও বিভাগভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় কোনো কোনো বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন কিংবা অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালানোর পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।
রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬৩ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ। রামগড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৭৫ জন, পাসের হার ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। নাকাপা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪১ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০ জন, পাসের হার ২৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। চৌধুরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৩ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র নয়জন, পাসের হার ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বলিপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৩ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১৬ জন, পাসের হার ৩৮ দশমিক ১০।
তবে ব্যতিক্রম রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদরাসা। ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
পাঁচটি বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসায় মোট ৫১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২০৯ জন। সম্মিলিত পাসের হার প্রায় ৪০ শতাংশ। বিশেষ করে চৌধুরীপাড়া, নাকাপা ও রামগড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রামগড়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকসঙ্কট প্রকট। ছয় প্রতিষ্ঠানে ১০৭টি শিক্ষকপদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৪৫টি পদ। অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশ পদই শূন্য।
রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৭টির মধ্যে ১৭টি, রামগড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০টির মধ্যে ছয়টি, নাকাপা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭টির মধ্যে ছয়টি, চৌধুরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টির মধ্যে চারটি ও বলিপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টির মধ্যে তিনটি পদ শূন্য। রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদরাসায় ২১টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে নয়টি।
বিভাগভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় কোথাও খণ্ডকালীন আবার কোথাও ধার করা শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত ও বিষয়ভিত্তিক পাঠদান কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রামগড় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের চিত্র আরো সঙ্কটপূর্ণ। সাতটি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। একজন অফিস সহায়ক দিয়েই উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমের দাফতরিক কাজ চালাতে হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়গুলোর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ কতটা কার্যকরভাবে হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
অভিভাবক ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যখন কোনো বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষকই পাচ্ছে না, তখন পরীক্ষার ফল খারাপ হলে শুধু শিক্ষার্থীকে দায়ী করা অন্যায়। বিদ্যালয়ে ক্লাস ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, শিক্ষকের পদ শূন্য কেন পড়ে আছে, শূন্য পদ পূরণে কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তরও খুঁজতে হবে।’
অভিভাবক শ্যামল রুদ্র বলেন, ‘সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে একজন অভিভাবকের প্রত্যাশা থাকে শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেবেন ও শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবেন। কিন্তু বিদ্যালয়ে শিক্ষকসঙ্কট থাকলে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না। পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার পর শুধু শিক্ষার্থীদের মেধা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশও মূল্যায়ন করা দরকার।’
রামগড় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) ও খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র শিকদার বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে আবাসন সমস্যা ব্যাপক। শিক্ষকরা এখানে থাকতে চান না। শিক্ষকসঙ্কটের বিষয়টি জেলা সংসদ সদস্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত এ সঙ্কটের সমাধান হবে।’



