নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের অদূরে সৈয়দপুর-নীলফামারী রেললাইন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ওয়াপদা নতুন হাট নেহালপাড়া এলাকা থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার ব্যক্তির মাথায় রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে কখন কোন ট্রেনে হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মৃতের শরীরে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। পরনে সবুজ খয়েরী রংয়ের চেক লুঙ্গি ও সুরমা রংয়ের শর্ট পাঞ্জাবি। সাথে একটা কাপড়ের ব্যাগে কয়েকটি জামা-লুঙ্গি, কিছু খুচরা টাকা এবং একটা চাদর আছে। বয়স আনুষ্ঠানিক ৬৫ বছর। রংপুর থেকে আগত পিবিআই টিম মৃত ব্যক্তির পরিচয় সনাক্তে নানা চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় সিআইডি টিম ডাকা হয়েছে।
ওয়াপদা নতুন হাট নেহালপাড়ার হৃদয় জানান, প্রতিদিনের মতো আজ সকাল ৮টার দিকে রেললাইনের পাড়ে গিয়ে দেখি লোকটা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। মাথার আঘাতে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে এলাকাবাসী ৯৯৯ নম্বরে পুলিশকে খবর দেন। প্রায় ২ ঘণ্টা পর সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ এসে লাশ উঠিয়ে মহল্লায় নিয়ে আসে। এখন পিআইবি এসে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
হৃদয়সহ এলাকাবাসী অনেকে জানায়, লোকটাকে প্রায়ই রেললাইন দিয়ে হেঁটে যেতে দেখেছে। কিন্তু তিনি কখনো কারো সাথে কথা বলতেন না। হয়তো বাক প্রতিবন্ধী ছিলেন। সম্ভবত ভিক্ষা করতেন। কিন্তু তার নাম ঠিকানা জানতে পারিনি। জানার ইচ্ছে হয়নি। তবে মনে হয় ঢেলাপীরের দিকে বা নীলফামারী সদর উপজেলার কোনো এলাকায় হবে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার এসআই জনক চন্দ্র রায় বলেন, ‘খবর পেয়ে এসেছি। নিহত ব্যক্তির পরিচয় না পাওয়ায় পিবিআইকে খবর দিলে দুই সদস্য এসে নানা প্রক্রিয়ায় সনাক্তের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কাজ না হওয়ায় সিআইডি টিম ডাকা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন মাধ্যমে নিহতের ছবি দিয়ে পরিচয় নিশ্চিতের জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। এখনো এ নিয়ে কোনো আশাজনক খবর পাওয়া যায়নি।
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলি মুঠোফোনে বলেন, ‘সিআইডি এসেও যদি পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া যায় তাহলে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই লাশ দাফন করা হবে। এর আগে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হবে। পরিচয়ের মতো ঘটনার সময় ও ট্রেনের বিষয়েও কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’



