মো: সাইফুল ইসলাম, দুমকি (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ার রোগীর চাপ বেড়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সঙ্কটে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই ডায়রিয়ার রোগী বাড়লেও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের সরবরাহ নেই।
ফার্মেসিম্যান মো: রুহুল আমীন জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণের মজুদ প্রায় দুই মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। চাহিদা পাঠানো হলেও এখনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি। ফলে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে আনতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশন দিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে বলছেন। এতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
হাসপাতালের নারী ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর স্বজন শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো: সোহেল বলেন, ‘দু’দিন আগে মেয়েকে ভর্তি করাই। এখান থেকে গ্যাসট্রিক ও প্যারাসিটামল ছাড়া আর কোনো ওষুধ দেয়া হয়নি। স্যালাইন সেট, টেপ, সিরিঞ্জসহ সবকিছু বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।’
একইভাবে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাখালী গ্রামের মালেকা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেয়া হয়নি। সব ওষুধ ও সরঞ্জাম বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মীর শহীদুল হাসান শাহীন সঙ্কটের সত্যতা স্বীকার করে জানান, টেন্ডার জটিলতার কারণে গজ, ব্যান্ডেজ, ক্যানোলা, মাইক্রোপোর, হেক্সিসল, সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেটসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত সরবরাহ দেয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



