সোনাগাজীতে বয়স্ক বিধবা নারীকে গায়েবি মামলায় হয়রানির অভিযোগ

বিলকিছ আক্তার স্থানীয়দের সহযোগিতায় জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। চলতি বছরের গত ১৪ জুন সকালে তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ।

সোনাগাজী (ফেনী) সংবাদদাতা

Location :

Feni
বিলকিস আক্তার
বিলকিস আক্তার |নয়া দিগন্ত

ফেনীর সোনাগাজীতে বিলকিস আক্তার (৫০) নামে এক বয়স্ক বিধবা অসহায় নারীকে মিথ্যা ও সাজানো গায়েবি মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

বিলকিস আক্তার বগাদানা ইউপির আডকাইম গ্রামের মরহুম মস্তফা মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি সহ স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী সুত্রে জানা যায়, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আড়কাইম গ্রামের মরহুম মোস্তফা মিয়ার ১১ বছর পূর্বে মৃত্যু হয়। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই। স্ত্রী বিলকিছ আক্তার স্থানীয়দের সহযোগিতায় জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। চলতি বছরের গত ১৪ জুন সকালে তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ।

থানায় গিয়ে জানতে পারেন চট্রগ্রাম জেলার কোতোয়ালি থানার রিয়াজ উদ্দিন বাজারের বিউটি জোন শপ নামক দোকান মালিক মোহাম্মদ এরশাদ কসমেটিকস সরবরাহ না করায় তিনি উনার বিরুদ্ধে ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট আদালতে ৪২০ ধারায় একটি মামলা করেন।

উক্ত মামলায় ওয়ারেন্টমুলে তাকে ফেনীর আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতের কৃপায় জামিন লাভ করেন। আদালত তাকে চট্রগ্রাম আদালত থেকে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আমি ডায়াবেটিস ও কিডনি জনিত নানা রোগে আক্রান্ত। আমার কেউ বিদেশে নেই তবুও বিদেশি কসমেটিক বিক্রির ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের মিথ্যা গায়েবি মামলা দিয়ে আমাকে আদালত আর থানায় দৌড়াচ্ছে। আমি বাদীকে জীবনেও দেখিনি ও চিনি না। এটি একটি গায়েবি মামলা। আমি সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি যাতে উক্ত মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়।’

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ভুক্তভোগী নারী অত্যন্ত শান্ত ও নিরীহ প্রকৃতির। তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে হয়তো কোনো পক্ষ এসব হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারা অবিলম্বে বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সোনাগাজীতে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল আলম সুমন জানান, উক্ত মহিলাটি নামাজি ও পরহেজগার। তার স্বামী ও পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ নেই। তাকে কেউ হয়রানির জন্য এসব করছে। সরকারের নিকট জোর দাবি জানাবো যাতে উক্ত মামলাটি খারিজ করে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খাঁন নয়ন বলেন, ‘অহরহ ভুয়া মামলার অভিযোগ আমরা পাই। এতে অনেক অসহায় মানুষ হয়রানির শিকার হন। যা মোটেও কাম্য নয়। আমি ও চাই সোনাগাজীর উক্ত অসহায় নারীর বিষয়টি আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নিবেন।’