রাজশাহীতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন

পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু সময় কোনো যানবাহনকে তেল দেয়া হচ্ছিল না। এতে একপর্যায়ে পাম্প এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
তেলের জন্য পাম্পে অপেক্ষা
তেলের জন্য পাম্পে অপেক্ষা |নয়া দিগন্ত

জ্বালানি তেলের সরবরাহে সাময়িক ঘাটতির কারণে রাজশাহী নগর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা দিয়েছে। কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে, আবার কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশের উপস্থিতিতে তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পবা উপজেলার বিমানবন্দর সড়কের সামনে অবস্থিত মেসার্স হাবিব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তেলের মেশিনের ওপর সাদা কাগজে লাল কালি দিয়ে লেখা ছিল জ্বালানি সঙ্কটের কারণে মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার, মাহিন্দ্রা বা ভুটভুটিকে ২০০ টাকার, প্রাইভেটকারকে এক হাজার টাকার এবং পিকআপকে ৩০০ টাকার তেল দেয়া হবে।

তবে সেখানে উপস্থিত অনেক চালক অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু সময় কোনো যানবাহনকে তেল দেয়া হচ্ছিল না। এতে একপর্যায়ে পাম্প এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ চালকেরা চিৎকার করে বলেন, যদি তেল দেয়াই না হয়, তাহলে দড়ি বেঁধে পাম্প বন্ধ করে রাখলেই পারত। অযথা আমাদের হয়রানি করার কী দরকার?

এ সময় কেউ একজন এয়ারপোর্ট থানায় ফোন করলে দ্রুত পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ পাম্প কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তেলের মেশিন চালু করে উপস্থিত যানবাহনগুলোকে তেল দেয়া শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই পরে স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি চলতে থাকে।

এদিকে রাজশাহী বিভাগজুড়ে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি দেখা দেয়ায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। চালকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মেসার্স আফরীন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সোলাইমান কবির জানান, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে মানুষের মধ্যে তেল সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জ্বালানি তেলের চাহিদা দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, ডিপো থেকে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক গাড়িতে তেল লোড হচ্ছে। দেশে তেলের প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই তবে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহীতে তেল পৌঁছাতে সময় লাগায় দ্রুত ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না।

সোলাইমান কবির জানান, তাদের পাম্পে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই বিক্রি বেড়ে ১১ থেকে ১২ হাজার লিটারে পৌঁছেছে। এ কারণেই সাময়িক সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় অনেক পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। তবে রোববার নতুন করে সরবরাহ পেলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Topics