বঙ্গোপসাগরে আল আমিনের বাঁচার একমাত্র সম্বল ছিল তেলের পট

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১১ জন জেলেসহ একটি মাছ ধরার ট্রলারটি ডুবে যায়। ছয়জন জেলে নিখোঁজ ছিলেন। ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে তেলের পট ও ডুবন্ত নৌকার ডালি ধরে দুই দিন তিন রাত সমুদ্রের স্রোতের সাথে অবিরাম যুদ্ধ করে ফিরে আসেন আল আমিন।

হারুন অর রশিদ, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

Location :

Galachipa
উদ্ধার আল আমিন
উদ্ধার আল আমিন |ফাইল ছবি

তেলের পট ও ডুবন্ত নৌকার ডালি ধরে দুই দিন তিন রাত বঙ্গোপসাগরে ভেসে বেঁচে ছিলাম বলে জানান মাঝি আল আমিন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে চরফ্যাশন হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

এর আগে রোববার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১১ জন জেলেসহ তাদের মাছ ধরার ট্রলারটি ডুবে যায়। পাঁচজন জেলে ফিরে আসলেও ছয়জন নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার ষষ্ঠ জেলে হিসেবে তেলের পট ও ডুবন্ত নৌকার ডালি ধরে দুই দিন তিন রাত সমুদ্রের স্রোতের সাথে অবিরাম যুদ্ধ করে ফিরে আসেন আল আমিন।

তিনি গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইছাদি গ্রামের চান্দু হাওলাদারের ছেলে।

গজালিয়ার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ভোলার শশীভূষণ থানার এয়োজপুর ইউনিয়নের ট্রলার মালিক সিরাজ মাঝি বঙ্গোপসাগর থেকে ঢাল চরের ৭০ কিলোমিটার দূরে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে আল আমিনকে উদ্ধার করেন। দুর্বল আল আমিনকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করে সিরাজ। স্বজনরা জানতে পেরে বৃহস্পতিবারই তাকে নিয়ে এসে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করান।

গলাচিপা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন্নবী জানান, সাগর থেকে আল আমিনসহ ছয়জন ফিরে আসেন। এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রত্যেক পরিবারকে সাড়ে সাত হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো: ইজাজুল হক জানান, নিখোঁজদের ব্যাপারে নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডসহ সকলদের অবহিত করা হয়েছে এবং উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।