বরগুনার পাথরঘাটায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আলম ফিটার (৫৫) নামে এক জেলেকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, রোববার (১০ মে) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের চল লাঠিমার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক।
নিহত জেলে আলম একই এলাকার মরহুম ধুলু মাঝির ছেলে।
নিহতের মেয়ে ফাতিমা বলেন, ‘আমাদের বাড়ির সামনের জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী ইলিয়াস, আল আমিন, সাইফুল, বেলায়েত, ইব্রাহিম, আবুসালেহ, নিজাম, ইউনুচ বয়াতির পরিবারের সাথে কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
গতকাল রোববার দুপুর ১টার দিকে আমার বাবা ওই জমির একটি নারকেল গাছের ডাব পেড়ে বিক্রি করে সেই টাকা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে জমা রাখেন এবং বলেন, সালিসের মাধ্যমে যে জমি পাবে সে এই টাকা নিয়ে যাবে। ইলিয়াস তা দেখে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আমার বাবা ইলিয়াসের সামনে যায়। এ সময় ইলিয়াস গাবের কচা (লাঠি) দিয়ে আমার বাবার মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
তারপর আমি সেখানে ছুটে গেলে আমাকেও এলোপাতাড়ি পেটানো শুরু করে। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের ডাক দিলে তারা ছুটে এসে আমার বাবাকে প্রথমে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজে পাঠান। সেখানেও অবস্থার আরো অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়ে দেন তারা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমার বাবার মৃত্যু হয়।’
স্থানীয়রা জানান, ইলিয়াস ও তার বাড়ির লোকজন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে সার্বক্ষণিক লোকজনকে ভয়ভীতি দেখায়। ওই পরিবারটির জন্য সবাই অতিষ্ঠ অবস্থায় আছে। এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, ‘ঘটনা শোনার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ দিলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



