ঢাকা-১ আসন

প্রবাসী ও নারীদের প্রাধান্য দিয়ে জামায়াত প্রার্থীর ১৪ দফা ইশতেহার

ইনসাফভিত্তিক সমাজ, সুশাসন, সমৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ” শীর্ষক ইশতেহারে প্রবাসী কল্যাণ, নারী ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দোহার–নবাবগঞ্জকে মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে

Location :

Nawabganj
নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পাড়া জামায়াত কার্যালয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম
নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পাড়া জামায়াত কার্যালয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা

ঢাকা-১ আসনে (দোহার–নবাবগঞ্জ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম ১৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পাড়া জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

“ইনসাফভিত্তিক সমাজ, সুশাসন, সমৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ” শীর্ষক ইশতেহারে প্রবাসী কল্যাণ, নারী ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দোহার–নবাবগঞ্জকে মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইশতেহারের প্রতিটি দফা তুলে ধরে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, দোহার–নবাবগঞ্জের প্রবাসীরা যেন হয়রানি ও প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য একটি প্রবাসী সহায়তা সেল গঠন করা হবে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে এবং বিদেশগমনের আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের জন্য দোহার–নবাবগঞ্জে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে স্বনির্ভরতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হবে এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি অনুদান ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে তিনি জানান, দোহার ও নবাবগঞ্জের সরকারি হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোনো পরীক্ষা ফি নেয়া যাবে না। মা ও শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন, ‘ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক’, ২৪ ঘণ্টার টেলিমেডিসিন ও স্বল্পমূল্যের অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হবে।

শিক্ষা খাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দোহার–নবাবগঞ্জে একটি পলিটেকনিক ও একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। অনার্স কলেজগুলোতে মাস্টার্স কোর্স চালু করা হবে এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হবে।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, মেট্রোরেল মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে মুন্সিগঞ্জ মেট্রোরেলের সঙ্গে দোহার–নবাবগঞ্জকে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি দুই উপজেলায় আধুনিক বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।

কৃষি ও তাঁত শিল্প বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য সরকারি সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তাঁত বোর্ড ও ওয়েভার অ্যাসোসিয়েশনের বেদখল সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে এবং দোহার–নবাবগঞ্জের লুঙ্গি ও জল-সিরা মিষ্টিকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।

সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক উন্মুক্ত তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ‘হ্যালো এমপি’ নামে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হবে এবং ভিজিডি-ভিজিএফসহ সব ধরনের ভাতা স্বচ্ছভাবে বণ্টন করা হবে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুব সমাজকে দক্ষ করে তুলতে সরকারি কারিগরি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বেকারমুক্ত উপজেলা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, সমতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না।

নদীভাঙন ও পর্যটন উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। আড়িয়াল বিলে ইকো-পার্ক, স্লুইস গেট ও ফেরি সার্ভিস চালু করে এলাকাটিকে পর্যটনসমৃদ্ধ করা হবে।

সংস্কৃতি ও ক্রীড়া উন্নয়নে বার্ষিক উপজেলা প্রিমিয়ার লীগ আয়োজন, মাঠগুলোকে মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তর এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

শ্রমিক কল্যাণ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু করা হবে এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে দোহার–নবাবগঞ্জ একটি মানবিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হবে। জনগণের ভোট ও সমর্থনই এই পরিবর্তনের প্রধান শক্তি।