বাংলাদেশ এখন প্রতিদিন একটি করে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান এমপি।
এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
সোমবার (২৫ মে) রাত ৮টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠান হয়।
আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ২০ দিন সময়ে ১৪০০ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্য করা হয়েছিল, ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছিল। এরকম একটি রক্তাক্ত বাংলাদেশ পেরিয়ে আমরা যেখানে এসেছি, সেখানে এসে দেখছি, আমার বাংলাদেশে এখন প্রতিদিন একটি ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জীবনে ১৯৭২ সালে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশে ফিরে এলেন তারপর থেকে বাংলাদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়েছিল। ’৭২ থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত এদেশে যে নির্মম নির্যাতন-নিপীড়ন চলেছে, তৎকালীন একমাত্র বিরোধিতাকারী দল জাসদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর যে হত্যাযজ্ঞ চলেছে তা ইতিহাসের অন্যতম একটি জঘন্য অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে। কথিত আছে জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে রক্ষীবাহিনীর দ্বারা হত্যা করা হয়েছিল।’
‘এসব কিছুর পরেও ’৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল, সেটা আমরা কামনা করিনি কখনো। আমরা মনে করি, একটি সরকারের পতন হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক অথবা বিপ্লবের মাধ্যমে, হত্যার মাধ্যমে না,’ বলেন তিনি।
বিএনপির এ এমপি বলেন, ‘শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সময় বিএনপির জন্ম হয়নি। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে শেখ মুজিব নিহত হয়েছিলেন। তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খোন্দকার মোস্তাক আহম্মেদ তার ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হিসেবে শেখ মুজিবের ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন, রাজনীতি করার চেষ্টা করেছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি মধ্যম পন্থায় রাজনীতি করে। বিএনপি বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করে। বিগত ১৬ বছর সময়ে বিএনপি রাজনীতি করতে গিয়ে সাড়ে চার হাজার সহযোদ্ধাকে পাখির মতো গুলিবিদ্ধ হয়ে, ক্রসফায়ারের মতো হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে দেখেছি। আমরা দেখেছি আমাদের ৭০০ সহযোদ্ধা গুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখেরও বেশি বিএনপি নেতাকর্মর বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছে। যে মামলার আসামি ছিলেন ঘটনার তারিখের ২০ বছর আগে যিনি মারা গেছেন, তেমন মানুষও।’
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. মুন্সী আবু সাইফের সঞ্চালনায় ও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দামুড়হুদা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন আলী।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা খ্রিষ্টান ক্রাইস্ট চার্চ চত্বরে আয়োজিত এ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ প্রমুখ।
পরে আইনমন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত কার্পাসডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী আটচালা ঘর প্রদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও জেল পুলিশের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
নজরুলপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়।



