সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় পথচারী ও যানবাহন চালকরা।
উপজেলার বাংলাবাজার–নরসিংপুর সড়কের নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্যামারগাঁও ভাঙা এলাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে যেখানে বিনা খরচে চলাচলের সুযোগ থাকার কথা, সেখানে এখন জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাটিতে হালকা বৃষ্টি হলেই চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। এতে বিগত বছরে বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়ন পরিষদের ইজারার মাধ্যমে প্রায় ছয় মাসের জন্য বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হতো। এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সেতুটি চালু থাকত এবং যাত্রী, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ছোট যানবাহন থেকে নির্ধারিত হারে টোল আদায় করা হতো। অক্টোবরের দিকে খালের পানি শুকিয়ে গেলে সেতুটি অপসারণ করা হতো এবং কাঁচা সড়ক দিয়ে বিনা খরচে চলাচল করতে পারতেন সাধারণ মানুষ।
কিন্তু চলতি বছর উপজেলা প্রশাসন বিকল্প পদ্ধতিতে বাঁশের সেতু নির্মাণের সুযোগ দেয়ায় ইজারা ছাড়াই শুকনো মৌসুমে কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাচল করলেও টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের ভোগান্তি আরো বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, বর্তমানে মাটি মাড়িয়ে খাল পার হতে মোটরসাইকেল প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং সিএনজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দিতে হচ্ছে। অন্য বছরগুলোতে প্রায় দুই লাখ টাকায় ইজারা নিয়ে বর্ষা মৌসুমে টোল আদায় করা হলেও শুকনো মৌসুমে কোনো ফি নেয়া হতো না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এবার কোনো বৈধ ইজারা ছাড়াই টাকা আদায় করায় চরম অনিয়ম ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, ‘এরকম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



