শাহজাদপুরে রফিকুল ইসলাম খান

শাপলা কলিতে ভোট দিলেই দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়া হবে

আগামী নির্বাচন ঠিক করে দেবে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের বাংলাদেশ হবে- নাকি দেশপ্রেমিক আধিপত্যবাদ-বিরোধী দেশপ্রেমিকদের বাংলাদেশ হবে।

Location :

Shahjadpur
শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মাওলানা রফিকুল ইসলম খানা
শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মাওলানা রফিকুল ইসলম খানা |নয়া দিগন্ত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ও শাহজাদপুর সংবাদদাতা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সিরাজগঞ্জের-৬ আসনে (শাহজাদপুর) যারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চেয়েছিলেন তারা শাপলা কলিতে ভোট দিলেই দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়া হবে। আপনারা শাপলা কলিতে ভোট দিয়ে এনসিপির সাইফ মুস্তাফিজকে বিজয়ী করবেন।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন ঠিক করে দেবে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের বাংলাদেশ হবে- নাকি দেশপ্রেমিক আধিপত্যবাদ-বিরোধী দেশপ্রেমিকদের বাংলাদেশ হবে।

৫ আগস্টের পরে সারাদেশে ২০০ লোক নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ ভাগ লোক নিহত হয়েছে বিএনপি'র হাতে। বিএনপি তাদের চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি করতে নিজ দলের কর্মীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যে দলের কাছে নিজ দলের লোকেরা নিরাপদ নয় সে দলের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ হবে কিভাবে? যে দলের কাছে নিজের দলের লোকেরা নিরাপদ নয় সে দলের কাছে বাংলাদেশটা নিরাপদ হবে কিভাবে। জামায়াতের নেতারা ফাঁসিতে ঝুলেছে তবু মুচলেকা দিয়ে বিদেশে পালায় নাই।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি মার্কা প্রতীকের প্রার্থী এনসিপি'র কেন্দ্রীয় নেতা এস এম সাইফ মুস্তাফিজের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সচিব হাসনাত আব্দুল্লাহ। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিরসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

রফিকুল ইসলাম খান আরো বলেন, একটি দলকে বিজয়ী করার জন্য প্রশাসনের লোকজন উঠে পড়ে লেগেছে। কারণ হাসিনার ফ্যাসিজম কাঠামো কায়েম থাকলে প্রশাসনের এসব লোকজন লুটেপুটে খাওয়ার সুযোগ পাবে। তাই তারা চাঁদাবাজদের জেতাতে মরিয়া। চাঁদাবাজ ও লুটেরাদের ক্ষমতায় আনার জন্য যারা চেষ্টা করছেন তাদের সাবধান করে দিতে চাই, অতীতে যেভাবে হাসিনা বিদায় নিয়েছে আপনাদেরও সেভাবে বিদায় নিতে হবে। জনগণ আপনাদের ছাড়বে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সচিব হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিজয় ছাড়া আমাদের সামনে কোনোরকম বিকল্প নাই। জনতার ক্ষমতা জনতার হাতে ফিরিয়ে দেয়ার সময় এসেছে। এ নির্বাচন মেহনতী মানুষের ভাগ্য নির্মাণের নির্বাচন।

তিনি বলেন, ১৭ বছর যারা আওয়ামী লীগের সাথে মিলেমিশে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে, ৫ আগস্টের পরে যারা চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করেছে তারা ঋণ খেলাপি মাফিয়াদের মনোনয়ন দিয়ে আরো একটি দুর্নীতিবাজ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো কায়েমের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ আগামীতে এগিয়ে যাবে নাকি পিছিয়ে যাবে তা নির্ধারণ করবে এই নির্বাচন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার এই নির্বাচন। যারা মা-বোনদের হিজাব বোরকা ও কাপড় খুলে ফেলতে চায় তারা ক্ষমতায় এলে দেশকে উলঙ্গ করে ছাড়বে। তারা ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজের রাজত্ব কায়েম হবে।

কিছু দালাল মিডিয়াকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না।

তিনি আরো বলেন, ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে আমরা জান দেবো তবু পিছপা হবো না। আমরা মা-বোনদের সম্ভ্রম বিকিয়ে দেবো না। শাহজাদপুরের ঘরে ঘরে শাপলা কলির আওয়াজ পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি। আগামীর রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য, জুলাই মেমোরেন্ডাম বাস্তবায়নের জন্য 'হ্যা' এর পক্ষে ভোট দিন।