নৈতিক নেতৃত্ব গড়তে যে ৩ বিষয়ের সমন্বয়কে অপরিহার্য বললেন এমপি মুজিবুর

‘একজন রুকন কেবল সংগঠনের সদস্য নন; তিনি আদর্শের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ব্যক্তিজীবনে তাকওয়া, আমানতদারিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা না হলে সংগঠন শক্তিশালী হয় না।’

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
রুকন শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
রুকন শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান |নয়া দিগন্ত

নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে জ্ঞান, চরিত্র ও কর্ম—এই তিনের সমন্বয় অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, একজন রুকন কেবল সংগঠনের সদস্য নন; তিনি আদর্শের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ব্যক্তিজীবনে তাকওয়া, আমানতদারিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা না হলে সংগঠন শক্তিশালী হয় না। তিনি সদস্যদের আত্মশুদ্ধি, নিয়মিত আত্মসমালোচনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং সমাজের কল্যাণে নিবেদিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

শনিবার (২ মে) রাজশাহী নগরীর একটি রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো: গোলাম মুর্তজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ শিক্ষাশিবিরে প্রধান আলোচক ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: নজরুল ইসলাম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আবুল হাসেম। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে জ্ঞান, চরিত্র ও কর্ম—এই তিনের সমন্বয় অপরিহার্য।’

তিনি বলেন, সংগঠনের প্রতিটি রুকনকে হতে হবে দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও কর্মমুখর। তিনি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলা, রিপোর্টিং ও পরিকল্পিত কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দাওয়াহ কার্যক্রমকে গতিশীল করা, মানুষের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আদর্শকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এ শিক্ষাশিবিরে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একটি আদর্শ সংগঠন টিকে থাকে সুশৃঙ্খল কাঠামো ও প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনীর ওপর। তিনি সদস্যদের নিয়মিত অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ ও দলীয় সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও দলগত সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, নেতৃত্ব মানে নির্দেশনা দেয়া নয়; বরং নিজে উদাহরণ সৃষ্টি করা। তিনি রুকনদেরকে পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে আদর্শ আচরণের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করার আহ্বান জানান। তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, জ্ঞান ও আদর্শের সমন্বয়েই একজন রুকন পরিপূর্ণতা লাভ করেন। তিনি কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জ্ঞানচর্চা, সমসাময়িক বিষয়াবলির ওপর দখল এবং যুক্তিবোধসম্পন্ন উপস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে যুক্তিনির্ভর, শালীন ও প্রজ্ঞাপূর্ণ দাওয়াহ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

শিক্ষাশিবিরে দলীয় আদর্শ, সাংগঠনিক কাঠামো, সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, কর্মপরিকল্পনা, নেতৃত্ব বিকাশ, সময় ব্যবস্থাপনা এবং সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয় বিষয়ে ধারাবাহিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।