ত্রিশালে চাঁদা বৃদ্ধির প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

বিক্ষুব্ধ চালকদের অভিযোগ, আগে প্রতিদিন ২০ টাকা করে ‘জিপি’ দিতে হতো। হঠাৎ করে তা বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক এক হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ না করলে সিএনজি চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Trishal
ত্রিশালে চাঁদা বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন
ত্রিশালে চাঁদা বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ‘জিপি’ নেয়ার নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকশ’ চালক উপজেলার ইভা ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

বিক্ষুব্ধ চালকদের অভিযোগ, আগে প্রতিদিন ২০ টাকা করে ‘জিপি’ দিতে হতো। হঠাৎ করে তা বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক এক হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ না করলে সিএনজি চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক বলেন, “আমরা দিন এনে দিন খাই। আগে ২০ টাকা দিতাম, এখন ৭০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। আবার মাসে এক হাজার টাকা দিতে হবে—এটা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”

সিএনজি চালক মফিজুল ইসলাম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর কোনো চাঁদা দিতে হয়নি। ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০, ৪০—এখন ৭০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। মাসিক এক হাজার টাকাও চাওয়া হচ্ছে। চাঁদা না দিলে স্ট্যান্ডে ঢুকতে দেয়া হয় না, মারধরের শিকারও হতে হয়।”

আরেক চালক মো. স্বপন মিয়া অভিযোগ করেন, ময়মনসিংহ কলেজ গেট এলাকায় নির্দিষ্ট কয়েকজনের নেতৃত্বে চাঁদা তোলা হয়। আগে ৪০ টাকা নেয়া হলেও এখন ৭০ টাকা করা হয়েছে।

ত্রিশাল থানার ওসি মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেয়া হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে দাবি পূরণ না হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চালকরা।