রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সঙ্কট, নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ড্রেজিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ

মাঝে মধ্যে নামমাত্র ও অপরিকল্পিত ড্রেজিং দেখিয়ে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। নিয়মিত ও পরিকল্পিত ড্রেজিং না হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সঙ্কট দিন দিন আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

Location :

Kurigram
নাব্যতা সঙ্কটে নৌপথ কার্যত বন্ধ, ড্রেজিংয়ে অনিয়ম
নাব্যতা সঙ্কটে নৌপথ কার্যত বন্ধ, ড্রেজিংয়ে অনিয়ম |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র নাব্যতা সঙ্কটে জেলা সদরের সাথে নৌপথে যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে সীমান্তবর্তী ও চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় গত প্রায় তিন মাস ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় মালবাহী ট্রাকসহ ভারী যানবাহন পারাপার বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের পানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি নদের বিভিন্ন স্থানে বিস্তীর্ণ চর ও বালুচর জেগে উঠেছে। ফলে নদের মাঝখানে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় গভীরতা না থাকায় কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে রৌমারীসহ আশপাশের চর ও সীমান্ত এলাকার মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নৌপথে যাতায়াতকারী যাত্রী রহমত আলী, আব্দুর রশিদ, ময়জাল হক ও ফুলবাবু আক্ষেপ করে জানান, বছরের পর বছর শুষ্ক মৌসুম এলেই নদের পানি শুকিয়ে যায় এবং নাব্যতা সঙ্কট সৃষ্টি হয়। অথচ এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ফলে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগী ও শিক্ষার্থীরা। কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অন্যদিকে বিকল্প পথে পরিবহন করতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে যেতে অনেককেই ঝুঁকিপূর্ণ ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্রের ফলুয়ারচর ঘাটে নাব্যতা সঙ্কট নিরসনের জন্য সারিসারি ড্রেজিং জাহাজ বছরের পর বছর নদের তীরে বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকলেও কার্যকর ড্রেজিং কার্যক্রম না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাঝে মধ্যে নামমাত্র ও অপরিকল্পিত ড্রেজিং দেখিয়ে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। নিয়মিত ও পরিকল্পিত ড্রেজিং না হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সঙ্কট দিন দিন আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

স্থানীয়রা রৌমারীর বাইশপাড়া ঘাট থেকে ফলুয়ারচর ঘাট পর্যন্ত পরিকল্পিত খননের মাধ্যমে নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নদের পাড় শক্ত ও মজবুত করার দাবি জানিয়েছেন। নদের দু’পাড়ের বাসিন্দা ও সচেতন মহল দ্রুত স্বচ্ছ ও কার্যকর ড্রেজিং কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানান।

তারা বলেন, অনিয়ম বন্ধ করে পরিকল্পিতভাবে ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা না গেলে রৌমারীর মানুষের দুর্ভোগ আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে। নৌযোগাযোগ স্বাভাবিক করা এবং ফেরি চলাচল পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।