সন্তানকে শাসন করায় স্কুলে ঢুকে শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড়

চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগে এক অভিভাবক দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ শিক্ষার্থীর মাকে গ্রেফতার করেছে, আর প্রধান অভিযুক্ত বাবা পলাতক রয়েছেন।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া ছবি
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া ছবি |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শাসনের জের ধরে বিদ্যালয়ে ঢুকে নারী প্রধান শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড়ের অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষার্থীর মা-বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লাঞ্ছনার শিকার প্রধান শিক্ষিকার করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মিতালী খাতুনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত তার স্বামী ও শিশুটির বাবা সামসউর রহমান শুভ এখনো পলাতক রয়েছেন।

গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে লাঞ্ছনার শিকার চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিতালী খাতুনকে গ্রেফতার করে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বুধবার সকালের অ্যাসেম্বলি (সমাবেশ) চলাকালে এক সহপাঠীর সাথে কথা বলার কারণে প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা তাকে শাসন করেন এবং দুই শিশুর গালে হালকা চড় দেন। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ের পাশের ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি সরাসরি প্রধান শিক্ষিকার অফিসকক্ষে ঢুকে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে নারী প্রধান শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শিক্ষক হিসেবে আমরা শিক্ষার্থীদের যেমন আদর করি, ডিসিপ্লিন শেখাতে প্রয়োজনে একটু শাসনও করতে হয়। সেই জায়গা থেকেই আমি আলতো করে একটা চড় মেরেছিলাম। কিন্তু এই কারণে একজন অভিভাবক সশরীরে অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন, এটা ভাবতেও পারি না।’

তিনি আরো জানান, এই ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পুনরায় হামলার আশঙ্কায় বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে মিতালী খাতুন নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। প্রধান অভিযুক্ত সামসউর রহমান শুভ পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।