আমতলীর বিএডিসি’র জরাজীর্ণ ভবনের মালামাল চুরি, কারাদণ্ড

বৃহস্পতিবার বিকেলে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো: ইফতি হাসান ইমরান তাকে এ দণ্ড দেন।

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

Location :

Barguna
নয়া দিগন্ত

অর্ধশত বছরের পুরনো পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ আমতলী বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) দ্বিতল ভবনের মালামাল চুরির অপরাধে জুয়েল মৃধা নামে একজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো: ইফতি হাসান ইমরান তাকে এ দণ্ড দেন।

জানা যায়, আমতলী উপজেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে ১৯৭৫ সালে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ মেশিনারিক যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতি মজুত রাখতে দুটি দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণ করে। ওই ভবন দুটি ১৫ বছর আগেই উপজেলা প্রশাসন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু ভবন দুটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পরে থাকলেও অপসারণ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ওই ভবনের মালামাল জুয়েল মৃধার নেতৃত্বে মো: বশির হোসেন, সজিব হাওলাদার ও বেল্লাল ভেঙে চুরি করে একটি ট্রাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে আটকের নির্দেশ দেন।

কোর্ড পুলিশ তাদের আটক করে আদালতের হেফাজতে রাখেন এবং মালামাল আদালতের জিম্মায় রাখা হয়। পরে বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (সেচ) মো: ইয়াকুব আলী তাদের বিরুদ্ধে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দেন।

আদালতের বিচারক ইফতি হাসান ইমরান তাদের মধ্যে জুয়েল মৃধাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরে বিকেলে পুলিশ তাকে বরগুনা জেলহাজতে পাঠান।

আমতলী উপজেলা বিএডিসি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিএডিসি’র ভবন সরকারি সম্পত্তি। সরকারি সম্পত্তি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ হলেও কারো নেয়ার অধিকার নেই। এ বিষয়ে আদালতে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।’

আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু বকর বলেন, ‘বিএডিসি কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সাথে জড়িত জুয়েল মৃধাকে আদালতের বিচারক বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। অপর তিনজন শ্রমিক হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়।’

আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও (সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা) মো: জাহেদ বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত জুয়েল মৃধাকে বরগুনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেহেতু ওই ভবনটি আদালতের সামনে তাই মালামাল আদালতের বিচারকের জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনিই ব্যবস্থা নিয়েছেন।’