১১০ বছরেও থামেনি ভোটের টান, পুত্রবধূর কাঁধে ভর করে কেন্দ্রে মনোয়ারা

বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও ভোট দেয়ার ইচ্ছা ছিল প্রবল। সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে পুত্রবধূ রাজিয়া খাতুন ভ্যানে করে তাকে কেন্দ্রের সামনে নিয়ে আসেন। পরে কাঁধে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে বুথ পর্যন্ত পৌঁছে দেন।

মনিরুজ্জামান সুমন, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)

Location :

Damurhuda
১১০ বছর বয়সী মনোয়ারা খাতুন
১১০ বছর বয়সী মনোয়ারা খাতুন |নয়া দিগন্ত

গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চায় বয়স কোনো বাধা নয়, এ কথা আবারো প্রমাণ করলেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার ১১০ বছর বয়সী মনোয়ারা খাতুন। বার্ধক্যজনিত কারণে হাঁটা-চলায় অক্ষম হলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে পুত্রবধূর কাঁধে ভর করে তিনি ভোটকেন্দ্রে আসেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সদর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮৩ নম্বর কেন্দ্রের ৫ নম্বর বুথে ভোট দেন তিনি।

মনোয়ারা খাতুন সদর উপজেলার বগাপাড়া গ্রামের মরহুম গোলাম রব্বানীর স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও ভোট দেয়ার ইচ্ছা ছিল প্রবল। সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে পুত্রবধূ রাজিয়া খাতুন ভ্যানে করে তাকে কেন্দ্রের সামনে নিয়ে আসেন। পরে কাঁধে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে বুথ পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ভোট দেয়া শেষে একইভাবে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঝেও এই দৃশ্য ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই শতবর্ষী এই নারীর সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন।

পুত্রবধূ রাজিয়া খাতুন বলেন, ‘আল্লাহ আমার শাশুড়িকে দীর্ঘ হায়াত দিয়েছেন। তিনি ভোট দিতে পেরে খুবই খুশি হয়েছেন। ভোট দেয়া তার কাছে দায়িত্বের বিষয়।’

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শামীম রেজা বলেন, ‘মনোয়ারা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা পুত্রবধূর কাঁধে ভর করে ভোট দিতে এসেছিলেন। আমরা তাকে সর্বোচ্চ সহায়তা করেছি। ভোট দিয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।’

তিনি জানান, ৮৩ নম্বর কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার সংখ্যা তিন হাজার ৬৪৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক হাজার ৭৮৭ জন এবং নারী ভোটার এক হাজার ৮৬০ জন। বেলা ১১টা পর্যন্ত এক হাজার ৩৪০টি ভোট পড়েছে, যা মোট ভোটের প্রায় ৩০ শতাংশ।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।