সংগ্রামী মায়ের হাত ধরে ট্যালেন্টপুলে যমজ দুই ভাই-বোন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ছোট্ট একটি ভাড়া দোকান। সামনে সাজানো কসমেটিকস সামগ্রী, ভেতরে স্বপ্ন আর সংগ্রামের গল্প। সেই দোকানঘরেই গড়ে উঠেছে দুই যমজ ভাই-বোনের স্বপ্নযাত্রা—যারা এবার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে এলাকায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
মুনতাহার হক মাইশা ও নওশাদ হক লাবিব (বাঁ দিক থেকে)
মুনতাহার হক মাইশা ও নওশাদ হক লাবিব (বাঁ দিক থেকে) |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ছোট্ট একটি ভাড়া দোকান। সামনে সাজানো কসমেটিকস সামগ্রী, ভেতরে স্বপ্ন আর সংগ্রামের গল্প। সেই দোকানঘরেই গড়ে উঠেছে দুই যমজ ভাই-বোনের স্বপ্নযাত্রা—যারা এবার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে এলাকায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

নওশাদ হক লাবিব ও মুনতাহার হক মাইশা—একই দিনে জন্ম নেয়া দুই প্রাণ। তাদের শৈশবেই নেমে আসে কঠিন বাস্তবতা। জন্মের মাত্র ১৩ মাসের মাথায় পিতৃহারা হয় তারা। বাবা মঞ্জুরুল হকের মৃত্যুর পর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে মা নৌশিন দিহান লাভলীর কাঁধে।

পৈতৃক নিবাস টিলাটিয়া গ্রাম হলেও জীবিকার তাগিদে সন্তানদের নিয়ে তিনি চলে আসেন গৌরীপুরে। শুরু করেন ভাড়া দোকানে কসমেটিকস ব্যবসা। দিনে দোকান, রাতে সন্তানদের পড়াশোনার তদারকি—এই ছিল তার জীবনের রুটিন। অভাব ছিল, ছিল না কোনো হাল ছাড়ার মানসিকতা।

বর্তমানে লাবিব পড়ছে নুরুল আমিন উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং মাইশা অধ্যয়ন করছে গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এ। দুজনেই নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তারা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে। ফল প্রকাশের পর আনন্দে ভরে ওঠে তাদের ছোট্ট সংসার।

মা লাভলী বলেন, ‘স্বামী হারানোর পর ভেবেছিলাম, হয়তো সন্তানদের স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হবে। কিন্তু আল্লাহর রহমত আর তাদের পরিশ্রমে আজ তারা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে।’

লাবিবের স্বপ্ন—একদিন বড় ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। আর মাইশা চায় ডাক্তার হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তাদের চোখে ভবিষ্যতের আলোকরেখা স্পষ্ট।

গৌরীপুরের স্টেশন রোডের ছোট্ট দোকানঘর আজ যেন এক সংগ্রামী মায়ের বিজয়ের প্রতীক। প্রমাণ করে দিয়েছে—অভাব নয়, ইচ্ছাশক্তিই মানুষকে বড় করে তোলে। যমজ দুই ভাই-বোনের এই সাফল্য কেবল একটি পরিবারের নয়, সমগ্র এলাকার জন্যই অনুপ্রেরণার গল্প।