গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম সফর। ফলে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
ঠাকুরগাঁওবাসী এলাকার সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে পেয়ে ব্যাপক আনন্দিত-উচ্ছসিত। তাকে বরণ করতে প্রস্তুতির কোনো কমতি রাখছেন না তারা। আগামীকাল রোববার ও সোমবার দুই দিনের এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসবের আমেজ।
ঠাকুরগাঁও শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, স্থাপনা, আইল্যান্ড ও গুরুত্ব¡পূর্ণ ভবনে পড়েছে নতুন রঙের আচড়, রাস্তা-ঘাটসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে চারপাশ। উচ্ছেদ করা হয়েছে সড়কের দুউ পাশের অবৈধ স্থাপনা। সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনও সম্পন্ন হয়েছে।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বয়ক ডা: এ বি এম খয়রুল কবির বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহোদয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার রোববার ঠাকুরগাঁও আসছেন। এটি আমাদের সকলের জন্য গর্বের। তিনি এখন আর কোনো দলের নয়, তিনি গণমানুষের রাষ্ট্রপতি। তাই ঠাকুরগাঁওয়ের নাগরিক সমাজের পক্ষথেকে আমরা একটি নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করেছি। যেখানে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করছি।’
রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো: লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তার অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি যাবেন ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে। সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি।
এরপর শহরের সেনুয়া কবরস্থানে তার বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন। কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলল ইসলাম আলমগীর শহরের কালীবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে সাড়ে ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড়মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁওসহ আশ পাশের জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণের আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল ৫টায় সংবর্ধনা গ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং নিজ বাড়িতেই তিনি রাত্রি যাপন করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকাল সোয়া ১১টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে নির্মিতব্য ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম নিবেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তার।
রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকাসহ গোটা শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে।



