গাজীপুরের শ্রীপুরে ডিমের অস্বাভাবিক মূল্য হ্রাসের প্রতিবাদে মহাসড়কে ডিম ভেঙে প্রতিবাদ জানিয়েছে পোলট্রি খামারিরা। এসময় তারা ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনাবাজারে এসব কর্মসূচী পালন করেন।
মানববন্ধনে খামারিরা অভিযোগ করেন, পোল্ট্রি খাদ্য ও ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিটি ডিম উৎপাদন খরচের চেয়ে আড়াই টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। সিন্ডিকেটের কারণে খুচরা বাজারে ভোক্তাদের বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। এতে একদিকে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অপরদিকে খামারিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
খামারিদের দাবি, লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও উঠছে না। ফলে হাজার হাজার প্রান্তিক খামারি দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ডিমের বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপসহ দৃষ্টি দেয়ার আবেদন জানান। সিন্ডিকেটের হাতে পানির দরে ডিম তুলে দেয়ার চেয়ে রাস্তায় ভেঙে প্রতিবাদ জানানোই ভালো। একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে মহাসড়কের ওপর শত শত ডিম আছড়ে ভেঙে তারা প্রতিবাদ জানায়।
খামারিদের হাতে বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে ডিমের দামের ঊর্ধ্বগতি-ডিমের দামে খামারিদের ক্ষতি, ডিম খেলে পুষ্টি মেলে-খামারিরা কেনো ঋণের জালে, ডিমের দাম কমলো কেনো-জবাব চাই, জবাব চাই। যে দেশে একটি সিগারেটের দাম ২৩ টাকা, সেই দেশে একটি ডিমের দাম সাড়ে সাত টাকা হয় কিভাবে?
উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের লোহাই বাজার এলাকার খামারি রাসেল প্রধান বলেন, ‘খামারে তিন থেকে চারজন শ্রমিক দিন-রাত পরিশ্রম করে ডিম উৎপাদন করছি। ওইসব ডিমের লাভ নিচ্ছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকার যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে দেশের পোল্ট্রি শিল্প বড় ধরনের সঙ্কটে পড়বে।’
তবে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকবে পোল্ট্রি খামারিরা।
মানববন্ধনে খামারিরা জানায়, উৎপাদন খরচের তুলনায় ডিমের বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় প্রান্তিক খামারিরা আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন। অনেক খামারি ঋণের বোঝা নিয়ে টিকে থাকার লড়াই করছেন। খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় ডিমের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। বাজারে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে তারা ডিমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শ্রীপুর উপজেলা পোলট্রি খামারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, ‘প্রতিনিয়ত মুরগির বাচ্চা, খাবার ও ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেলেও ডিমের দাম না বাড়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একটি ডিম উৎপাদনে খামারিদের খরচ চচ্ছে নয় টাকা ৮০ পয়সা। পাইকারদের কাছে প্রতি পিছ ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে সাড়ে সাত টাকা। এতে লোকসানের গুনছেন খামারিরা। বিগত প্রায় ছয় মাস যাবত খামারিরা লোকসান দিচ্ছেন।’
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো: আশরাফ হোসেন বলেন, ‘শ্রীপুর উপজেলায় লেয়ার মুরগির খামারি রয়েছে সাড়ে ৩০০। এসব খামারে প্রায় এক হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করছেন। শতাধিক মুরগির খাবার ও ওষুধের ডিলার আছেন। প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে ১৩ লাখ ডিম।’



