তীব্র সমালোচনা, বিরোধিতা ও প্রতিবাদের মুখে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে বর্ধিত পাঁচ টাকা বাস ভাড়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে আগের মতো ৫০ টাকা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অনিবার্য কারণবশত গত ২০ আগস্ট বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বর্ধিত ভাড়ার বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলো। সেহেতু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের ভাড়া পূর্বের ন্যায় বহাল থাকবে।’
এর আগে গত বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভায় রাজনৈতিক ও নাগরিক নেতাদের বিরোধিতার পরও বাস ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ পথে বর্ধিত বাসভাড়া কার্যকর করা হয়।
এদিকে, শুক্রবার বিকেল এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা বাস-মিনিবাস কেন্দ্রীয় মালিক সমিতির সভাপতি মো: রওশন আলী সরকার বলেন, ‘পরিবহনের ক্ষেত্রে ৫১ সিটের ভাড়া নিয়ম অনুযায়ী ৬১.৩৬ পয়সা আমরা প্রাপ্য। কিন্তু গত ২০ আগস্ট জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নাগরিক কমিটি, যাত্রী অধিকার ফোরামের উপস্থিতিতে আমাদের প্রাপ্য ভাড়া কমিয়ে ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘২১ আগস্ট জেলা প্রশাসকের সম্মানের কথা চিন্তা করে আমরা ৫৫ টাকা ভাড়া নিই। এরপর ২২ আগস্ট জেলা প্রশাসক কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই অনিবার্য কারণে বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বর্ধিত ভাড়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। আমরা তার সম্মানার্থে তাৎক্ষণিক আবারো ৫০ টাকা ভাড়া চালু করি।’
গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জে বাসভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। তারা আধাবেলা হরতালেরও ঘোষণা দেন। পরে হরতালের এক দিন আগে ১৬ নভেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাস-মালিক ও যাত্রী অধিকার ফোরামের সাথে বৈঠক করে বাসভাড়া কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করেন।



