বরিশালের উজিরপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি গোপন কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী এবং ২০১৯ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এসব ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে একটি কক্ষে পড়ে ছিল এবং কেন তা নিয়মিত হিসাব-নিকাশের আওতায় ছিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, সম্প্রতি হাসপাতালের একটি কক্ষ পরিষ্কার করার সময় সরকারি ওষুধ, অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত সরকারি ওষুধও রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক এক স্টোরকিপারের দায়িত্বকালে এসব ওষুধ ও সরঞ্জাম ওই কক্ষে মজুত করে রাখা হয়েছিল। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে ফেলে রাখার কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আনসার সদস্যদের অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহারের জন্য স্টোররুম পরিষ্কার করার সময় ২০১৯ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু ওষুধ পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া সব সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। হিসাব-নিকাশ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলী সুজা বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে শিগগিরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



