মাদারগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর মেঝের গর্তে মিলল মরিয়মের লাশ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর মরিয়ম আক্তার নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Location :

Madarganj
নিহত মরিয়ম আক্তার
নিহত মরিয়ম আক্তার |নয়া দিগন্ত

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর মরিয়ম আক্তার নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর এলাকার জামিনুরের বসতঘরের মাটির নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মরিয়ম ৪১ নম্বর সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়ি চর লোটাবর থেকে স্কুলের উদ্দেশে বের হয় মরিয়ম। সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে সে বিদ্যালয়ে পৌঁছালেও তখনো স্কুল খোলা হয়নি। স্থানীয় এক পথচারী তাকে বিদ্যালয়ের সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখেছেন বলে পরিবারকে জানান। পরে স্কুল খোলার আগেই মরিয়ম নিখোঁজ হয়।

এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের তিন দিন পর শনিবার রাতে চর লোটাবর এলাকার জামিনুরের বসতঘরের মাটির নিচে মরিয়মের লাশ থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাহাদুর মণ্ডল বাদি হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ চর লোটাবর এলাকার জামিনুর (৩২) ও তার স্ত্রী সবুজা বেগমকে (২৫) আটক করে। তাদের জামালপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত মরিয়মের মামা শামছুল হক বলেন, আমার ভাগ্নি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে স্কুলে যায়। বৃহস্পতিবার স্কুলে গিয়ে খোলা না পেয়ে সিঁড়িতে বসে ছিল বলে স্থানীয় এক পথচারীর কাছ থেকে জানতে পারি। এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। তিন দিন পর জামিনুরের বসতঘরের মাটির নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নিহতের মা ববিতা বেগম বলেন, ‘মেয়েটা স্কুলে যাওয়ার পর থেকেই আমার কেমন যেন অস্বস্তি লাগছিল। সকাল ৯টার পর স্কুলে গিয়ে দেখি মরিয়ম নেই। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিন দিন পর মেয়ের লাশ পেয়েছি। আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহিনা আক্তার বলেন, ‘আমি সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে স্কুলে আসি। তখন মরিয়মকে স্কুলে পাইনি। পরে সকাল ৯টার পর তার মা এসে মরিয়ম কোথায় জানতে চান। আমি তাকে বলি, মরিয়ম তো স্কুলে আসেনি। নিখোঁজের তিন দিন পর স্কুলের সামনের জামিনুরের ঘরের মাটির নিচ থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষ মর্মাহত। আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, ‘নিখোঁজ শিক্ষার্থী মরিয়মের লাশ একটি ঘরের মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ সময় চিৎকার করলে তাকে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’