অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে— বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের (বাজাফে-৮) উদ্যোগে ষান্মাসিক অঞ্চল দায়িত্বশীল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সারাদিনব্যাপী দায়িত্বশীল বৈঠকে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম-এর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খাঁন, মাস্টার শফিকুল আলম, কবির আহমদ, মজিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, আগামী ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা ও তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘শ্রমিক ময়দানে যে আদর্শিক বলয়ের প্রভাবে দীর্ঘ ৫৭ বছরে এসে আজ তা পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রভাব বলয়ের বাইরে একটি আদর্শিক ধারা হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় আমরা কথা বলার, বসার এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অংশ নেওয়ার পরিবেশ পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের জন্য আমরা যে অবদান রাখার কথা, নানা কারণে কোনো সরকারই আমাদের সেই সুযোগ করে দেয়নি। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্বে থাকার কারণে আমাদের দায়িত্বও বহুগুণ বেড়ে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে শ্রমিক নেতৃত্বে যারা ছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতা শ্রমিকদের জন্য কখনোই শুভকর ছিল না। সরকার যখন শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখন যেসব শ্রমিক নেতাকে আলোচনার জন্য উপযুক্ত মনে করা হয়, তারা বারবার শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। সর্বশেষও সরকারকে প্রভাবিত করে শ্রমিকদের জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি শ্রমিকের মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। বর্তমান বাজারমূল্যে সাড়ে ১২ হাজার টাকা একটি ছোট পরিবারের জন্যও ন্যায়সঙ্গত নয়।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের জন্য যে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন হবে, তা আমাদের ধারণ করতে হবে এবং সেই নীতিমালা প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারের নীতিনির্ধারণে আমাদের চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরে যথাযথ অবদান রেখে এবং শ্রমিক নেতৃত্বের অগ্রভাগে থেকে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের যে বিশাল জনশক্তি রয়েছে, শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নে তা কাজে লাগাতে হবে। সত্যিকার অর্থে আমরা যদি এই জনশক্তিকে শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং সেক্টরগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে পারি, তাহলে গোটা শ্রমিক সেক্টরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, ‘সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়ে শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অধিকার লঙ্ঘিত হলে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’



